কম খরচে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছাড়া ২৪ বছর বয়সী কোরআনের হাফেজ জায়েদ আলী শাহ। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গ্রিসে পৌঁছালেও স্বপ্ন পূরণ হয়নি ওই যুবকের। নির্যাতন ও অনাহারে থাকার পর গ্রিসে পৌঁছানোর চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জায়েদ আলী।
দেড় মাস পর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ওই যুবকের প্রাণহীন নিথর দেহ গ্রামের বাড়িতে আসে। পরে দুপুরে জানাজার নামাজ শেষে তাকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কোরআনের হাফেজ জায়েদ আলী সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার শেরপুর গ্রামের মৃত শাহ রহিম আলীর ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে জায়েদ ছিলেন সবার ছোট ও আদরের। তবুও সংসারের হাল ধরতে গত সাত মাস আগে সার্বিয়া যাওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়েন জায়েদ। কিন্তু দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে সার্বিয়ার বদলে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে দেড় মাস আগে গ্রিসে পৌঁছান তিনি।
তবে লিবিয়ায় থাকাকালীন অমানবিক শারীরিক নির্যাতন ও অনাহারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে গ্রিসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪০ দিন আগে তার মৃত্যু হয়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় শনিবার জায়েদের মরদেহ দেশে আসে।
জায়েদের বড় ভাই রাহেদ শাহ বলেন, গত সাত মাস আগে দালালের সঙ্গে ১৩ লাখ টাকায় আমার ভাইকে সার্বিয়া পাঠানোর চুক্তি হয়। কিন্তু দালাল প্রতারণা করে তাকে লিবিয়া পাঠায়। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতন থেকে আমার ভাইকে বাঁচাতে আমি দালাল চক্রকে আরও ৯ লাখ টাকা দিই। তবুও আমার ভাইকে বাঁচাতে পারিনি। আমরা এর বিচার চাই।
কালনী ভিউ ডেস্ক: 









