লন্ডন ০৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১৮ জুলাই এক দফা দাবিতে সারাদেশে বিএনপির পদযাত্রা

রকারের পদত্যাগ, সংসদের বিলুপ্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা ও খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তির এক দফা দাবিতে আগামী ১৮ জুলাই ঢাকাসহ সারাদেশে পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

বুধবার (১২ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি আয়োজিত ‘যুগপৎ ধারায় বৃহত্তর গণআন্দোলনের ১ দফা যৌথ ঘোষণার সমাবেশ’-এ এই দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এসময় তিনি সরকারের পদত্যাগ চেয়ে বলেন, ‘এখনও সময় আছে এই ঘোষণার পরপরই পদত্যাগ করুন। অন্যথায় পালাবার পথও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

‘যুগপৎ ধারায় বৃহত্তর গণআন্দোলনের ১ দফার যৌথ ঘোষণা’ শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী বর্তমান ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ও বিদ্যমান অবৈধ সংসদের বিলুপ্তি; নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও নির্বাচন কমিশন পুনঃগঠন করে তার অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা; বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি, মিথ্যা-গায়েবি মামলা প্রত্যাহার, ফরমায়েশি সাজা বাতিল এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ১ দফা দাবিতে রাজপথে সক্রিয় বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও দলসমূহ যুগপৎ ধারায় ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর গণআন্দোলন গড় তোলা ও সফল করার ঘোষণা প্রদান করছে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান।

একদফা ঘোষণার বক্তব্যের শুরুতে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকের ঘোষণা আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিসেবে দিচ্ছি না, এই ঘোষণা নির্বাসিত নেতা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে। রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎভাবে অবৈধ সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ঘোষণা করবো। এই ঘোষণা ঐতিহাসিক। জাতিকে মুক্ত করবার আহ্বান। জাতিকে তার হারানো অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অধিকারবক্তব্যের শুরুতে তিনি স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। শ্রদ্ধা জানান বিএনপির নিহত কর্মীদের প্রতি। তাদের নাম উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জানান ফখরুল।

ঘোষণার আগে ফখরুল আরও বলেন, ‘এই সংগ্রাম অস্তিত্বের সংগ্রাম। এই সংগ্রাম ১৮ কোটি মানুষের সংগ্রাম। ভোট দিতে চাই। যাকে খুশি তাকে দেবো। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো, যারা যৌথভাবে আন্দোলন করছি। সর্বসম্মতভাবে আমরা যৌথ ঘোষণা দেবো যার যার জায়গা থেকে। প্রায় ৩৪টির মতো দল ও জোট সিদ্ধান্ত নিয়েছি সর্বসম্মতভাবে।’

‘আসুন, দুর্ভেদ্য উত্তাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লুটেরা ফ্যাসিবাদী সরকার সরিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের রাষ্ট্র নির্মাণ করি।’ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এ কথা বলেন ফখরুল।

প্রাথমিক কর্মসূচি উল্লেখ করে ফখরুল জানান, ১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১৮ জুলাই মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে মহানগরী ও জেলা পর্যায়ে পদযাত্রা।

সূত্র-দৈ.ই.

ট্যাগ:
লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

১৮ জুলাই এক দফা দাবিতে সারাদেশে বিএনপির পদযাত্রা

প্রকাশের সময়: ০৭:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩

রকারের পদত্যাগ, সংসদের বিলুপ্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা ও খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তির এক দফা দাবিতে আগামী ১৮ জুলাই ঢাকাসহ সারাদেশে পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

বুধবার (১২ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি আয়োজিত ‘যুগপৎ ধারায় বৃহত্তর গণআন্দোলনের ১ দফা যৌথ ঘোষণার সমাবেশ’-এ এই দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এসময় তিনি সরকারের পদত্যাগ চেয়ে বলেন, ‘এখনও সময় আছে এই ঘোষণার পরপরই পদত্যাগ করুন। অন্যথায় পালাবার পথও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

‘যুগপৎ ধারায় বৃহত্তর গণআন্দোলনের ১ দফার যৌথ ঘোষণা’ শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী বর্তমান ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ও বিদ্যমান অবৈধ সংসদের বিলুপ্তি; নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও নির্বাচন কমিশন পুনঃগঠন করে তার অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা; বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি, মিথ্যা-গায়েবি মামলা প্রত্যাহার, ফরমায়েশি সাজা বাতিল এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ১ দফা দাবিতে রাজপথে সক্রিয় বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও দলসমূহ যুগপৎ ধারায় ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর গণআন্দোলন গড় তোলা ও সফল করার ঘোষণা প্রদান করছে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান।

একদফা ঘোষণার বক্তব্যের শুরুতে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকের ঘোষণা আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিসেবে দিচ্ছি না, এই ঘোষণা নির্বাসিত নেতা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে। রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎভাবে অবৈধ সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ঘোষণা করবো। এই ঘোষণা ঐতিহাসিক। জাতিকে মুক্ত করবার আহ্বান। জাতিকে তার হারানো অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অধিকারবক্তব্যের শুরুতে তিনি স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। শ্রদ্ধা জানান বিএনপির নিহত কর্মীদের প্রতি। তাদের নাম উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জানান ফখরুল।

ঘোষণার আগে ফখরুল আরও বলেন, ‘এই সংগ্রাম অস্তিত্বের সংগ্রাম। এই সংগ্রাম ১৮ কোটি মানুষের সংগ্রাম। ভোট দিতে চাই। যাকে খুশি তাকে দেবো। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো, যারা যৌথভাবে আন্দোলন করছি। সর্বসম্মতভাবে আমরা যৌথ ঘোষণা দেবো যার যার জায়গা থেকে। প্রায় ৩৪টির মতো দল ও জোট সিদ্ধান্ত নিয়েছি সর্বসম্মতভাবে।’

‘আসুন, দুর্ভেদ্য উত্তাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লুটেরা ফ্যাসিবাদী সরকার সরিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের রাষ্ট্র নির্মাণ করি।’ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এ কথা বলেন ফখরুল।

প্রাথমিক কর্মসূচি উল্লেখ করে ফখরুল জানান, ১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১৮ জুলাই মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে মহানগরী ও জেলা পর্যায়ে পদযাত্রা।

সূত্র-দৈ.ই.