দিরাই পৌর সদরের বাগবাড়ী এলাকায় অবস্থিত নবনির্মিত দিরাই মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো জুমার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।
শুক্রবার দুপুরে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশগ্রহণে এই জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর দিরাইয়ে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ মডেল মসজিদে একসাথে নামাজ আদায়ের সুযোগ পেয়ে মুসল্লিদের মধ্যে সন্তোষ ও আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে।
দিরাই মডেল মসজিদটি বাংলাদেশ সরকারের ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প-এর আওতায় নির্মিত হয়েছে। সরকারের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আধুনিক সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন মসজিদ স্থাপন করা, যেখানে শুধু নামাজ আদায় নয়, বরং ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা, দাওয়াহ ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দিরাই মডেল মসজিদেও সেই লক্ষ্য অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে।
এই মডেল মসজিদে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নামাজ আদায়ের জন্য প্রশস্ত নামাজ হল রয়েছে। পাশাপাশি পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান ও ওজুখানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে ইসলামিক লাইব্রেরি, কোরআন হিফজ ও শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের আবাসন সুবিধা, হজ ও ওমরাহ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মুসল্লিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক ও দাওয়াহ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি মডেল মসজিদ নির্মাণে গড়ে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে দিরাই মডেল মসজিদের সুনির্দিষ্ট নির্মাণ ব্যয়ের তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, দিরাই মডেল মসজিদ ভবিষ্যতে শুধু ধর্মীয় ইবাদতের স্থান হিসেবেই নয়, বরং উপজেলায় ইসলামী শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 








