লন্ডন ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটে লন্ডনী কন্যা সেজে প্রতারনায় ফেঁসে গেলেন যুবক

সিলেটে এক ‘লন্ডনী কন্যা’র প্রতারণায় ফেঁসে গেছেন ওসমানীনগর থানার নিজ কুরুয়া ১০ মাইল গ্রামের মনির আহমদের ছেলে মাসরুল আহমদ। এক যুবতিকে লন্ডনী সাজিয়ে তার সাথে বিয়ের পর এখন তার নিজের জীবন ও সম্পদ হুমকির মুখে। তিনি ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্টিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

তিনি জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর তিনি প্রেমে পড়েন নগরীর কুয়ারপার এলাকার ১৯২, নুরজাহান ভিলার মনির চৌধুরীর মেয়ে তাছিন চৌধুরীর। নিজেকে তিনি বৃটিশ নাগরিক বলে পরিচয় দিয়ে তার বাবা-মা লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে জানান। তাছিন মাসরুলকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে তার চাচা একই ঠিকানার লাবলু মিযার (৫৫) সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

কথাবার্তার এক পর্যায়ে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু এর আগে ১০ আগস্ট তারা ৫ লাখ টাকা ঋণ হিসাবে নেন মাসরুলের কাছ থেকে। সঙ্গে ইংল্যান্ড যাওয়ার প্রসেসিংয়ের জন্য তার পাসপোর্টও নিয়ে নেন। তবে বিয়ের একমাস পর তাছিনের আচরণে পরিবর্তন হতে থাকে। মোবাইলে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে পরপরুষের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত থাকতে দেখে মাসরুল প্রতিবাদ করলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করতেন না। কয়েক মাস পর মাসরুল ঋণ হিসাবে নেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত চাইলে তাছিন লাবলু ও তার স্বজনরা নানান হুমকি ধমকি দিতে থাকেন। তারা জানিয়ে দেন যে, ভুয়া ডকুমেন্টে বিয়ে হয়েছে। বাড়াবাড়ি করলে তার প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়।

এমন পরিস্থিতিতে মাসরুল খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাছিন যে জন্মনিবন্ধন কার্ড দিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজের প্যাডে স্বাক্ষর দিয়ে জানিয়েছেন, এই জন্ম নিবন্ধন নম্বরটি জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্টি। এরপর মাসরুল আরও খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন এই চক্রটি ইতিপূর্বে আরও অনেকের সাথে একই রকম প্রতারণা করেছে।

মাসরুল জানান, তাছিনের মূল বাড়ি নেত্রকোনায় হলেও সে নিজেকে সিলেটী পরিচয় দিয়ে একা থাকে এবং বিয়ের নামে লাবলুসহ তার গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে এমন প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে পরপরুষ নিয়ে বাসায় বেলেল্লাপনায় দেখে তিনি প্রতিবাদ করলেও তাছিন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এ ব্যাপারে গত ৩০ জানুয়ারি শাহপরাণ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (নং ১৬৩৪) দায়ের করেন। এর আগে ২০ জানুয়ারি ভুয়া জন্মনিবন্ধন নম্বর সৃজন করে বিয়ের নামে বেঈমানী ও জালিয়াতির অভিযোগে গত ২০ জানুয়ারি আমলগ্রহণকারী ১নং আদালতে একটি মামলা (কোতোয়ালী সিআর নং ৯৭) দায়ের করেন।

তিনি জানান, তাছিন-লাবলু গ্যাংয়ের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে তারা গত বছরের ২৪ নভেম্বর লিগ্যাল এইড অফিসার বরাবর ডিভোর্স ও ভরণপোষণ চেয়ে অভিযোগে দাখিল করেছেন। অভিযোগে দাবি করেছেন আমি নাকি তার কাছ থেকে ২৯ লাখ টাকা নিয়েছি। এই ২৯ লাখ টাকার সাথে দেন মোহরের ১০ লাখ এবং মাসিক আরও ১৫ হাজার টাকা করে ভরণপোষণের দাবি জানিয়েছেন তাছিন। পুরো বিয়েটাই হয়েছে ফেইক ডকুমেন্টে, বিশেষ করে তার জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্টি। আবার তার কাছ থেকে ২৯ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টিও সম্পূর্ণ ভুয়া এবং বানোয়াট।

এমন জালিয়াত চক্রের কবল থেকে তিনি নিজের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সিলেটের আদালত, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনসহ সবার সার্বিক সহযোগীতা চেয়েছেন।

তবে তাহসিন মাসরুলের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, আমাকে বিব্রত করার জন্যই মাসরুল এসব করছে। তার সঙ্গে সংসার করবনা তাই ডিভোর্স চেয়েছি।

ট্যাগ:

সিলেটে লন্ডনী কন্যা সেজে প্রতারনায় ফেঁসে গেলেন যুবক

প্রকাশের সময়: ১২:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিলেটে এক ‘লন্ডনী কন্যা’র প্রতারণায় ফেঁসে গেছেন ওসমানীনগর থানার নিজ কুরুয়া ১০ মাইল গ্রামের মনির আহমদের ছেলে মাসরুল আহমদ। এক যুবতিকে লন্ডনী সাজিয়ে তার সাথে বিয়ের পর এখন তার নিজের জীবন ও সম্পদ হুমকির মুখে। তিনি ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্টিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

তিনি জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর তিনি প্রেমে পড়েন নগরীর কুয়ারপার এলাকার ১৯২, নুরজাহান ভিলার মনির চৌধুরীর মেয়ে তাছিন চৌধুরীর। নিজেকে তিনি বৃটিশ নাগরিক বলে পরিচয় দিয়ে তার বাবা-মা লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে জানান। তাছিন মাসরুলকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে তার চাচা একই ঠিকানার লাবলু মিযার (৫৫) সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

কথাবার্তার এক পর্যায়ে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু এর আগে ১০ আগস্ট তারা ৫ লাখ টাকা ঋণ হিসাবে নেন মাসরুলের কাছ থেকে। সঙ্গে ইংল্যান্ড যাওয়ার প্রসেসিংয়ের জন্য তার পাসপোর্টও নিয়ে নেন। তবে বিয়ের একমাস পর তাছিনের আচরণে পরিবর্তন হতে থাকে। মোবাইলে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে পরপরুষের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত থাকতে দেখে মাসরুল প্রতিবাদ করলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করতেন না। কয়েক মাস পর মাসরুল ঋণ হিসাবে নেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত চাইলে তাছিন লাবলু ও তার স্বজনরা নানান হুমকি ধমকি দিতে থাকেন। তারা জানিয়ে দেন যে, ভুয়া ডকুমেন্টে বিয়ে হয়েছে। বাড়াবাড়ি করলে তার প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়।

এমন পরিস্থিতিতে মাসরুল খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাছিন যে জন্মনিবন্ধন কার্ড দিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজের প্যাডে স্বাক্ষর দিয়ে জানিয়েছেন, এই জন্ম নিবন্ধন নম্বরটি জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্টি। এরপর মাসরুল আরও খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন এই চক্রটি ইতিপূর্বে আরও অনেকের সাথে একই রকম প্রতারণা করেছে।

মাসরুল জানান, তাছিনের মূল বাড়ি নেত্রকোনায় হলেও সে নিজেকে সিলেটী পরিচয় দিয়ে একা থাকে এবং বিয়ের নামে লাবলুসহ তার গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে এমন প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে পরপরুষ নিয়ে বাসায় বেলেল্লাপনায় দেখে তিনি প্রতিবাদ করলেও তাছিন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এ ব্যাপারে গত ৩০ জানুয়ারি শাহপরাণ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (নং ১৬৩৪) দায়ের করেন। এর আগে ২০ জানুয়ারি ভুয়া জন্মনিবন্ধন নম্বর সৃজন করে বিয়ের নামে বেঈমানী ও জালিয়াতির অভিযোগে গত ২০ জানুয়ারি আমলগ্রহণকারী ১নং আদালতে একটি মামলা (কোতোয়ালী সিআর নং ৯৭) দায়ের করেন।

তিনি জানান, তাছিন-লাবলু গ্যাংয়ের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে তারা গত বছরের ২৪ নভেম্বর লিগ্যাল এইড অফিসার বরাবর ডিভোর্স ও ভরণপোষণ চেয়ে অভিযোগে দাখিল করেছেন। অভিযোগে দাবি করেছেন আমি নাকি তার কাছ থেকে ২৯ লাখ টাকা নিয়েছি। এই ২৯ লাখ টাকার সাথে দেন মোহরের ১০ লাখ এবং মাসিক আরও ১৫ হাজার টাকা করে ভরণপোষণের দাবি জানিয়েছেন তাছিন। পুরো বিয়েটাই হয়েছে ফেইক ডকুমেন্টে, বিশেষ করে তার জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্টি। আবার তার কাছ থেকে ২৯ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টিও সম্পূর্ণ ভুয়া এবং বানোয়াট।

এমন জালিয়াত চক্রের কবল থেকে তিনি নিজের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সিলেটের আদালত, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনসহ সবার সার্বিক সহযোগীতা চেয়েছেন।

তবে তাহসিন মাসরুলের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, আমাকে বিব্রত করার জন্যই মাসরুল এসব করছে। তার সঙ্গে সংসার করবনা তাই ডিভোর্স চেয়েছি।