সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসন থেকে সাতবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নেই আজ প্রায় এক দশক। তবে সময়ের ব্যবধানে তিনি নেইএমনটা বলা গেলেও দিরাই-শাল্লার রাজনীতিতে তাঁর নাম এখনো আলোচনার কেন্দ্রে। রয়েছে তাঁর অগণিত কর্মী-সমর্থক, রয়েছে স্মৃতি আর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের আলোচনা।
বৃহস্পতিবার তাঁর নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে আবারও আলোচনায় উঠে এলেন ‘ভাটি বাংলার নেতা’ খ্যাত এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির পৃথকভাবে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
দুই প্রার্থীই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট এবং নির্বাচনী সভা-সমাবেশে বক্তব্যের মাধ্যমে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দিরাই-শাল্লার সম্প্রীতির রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন তাঁরা।
শিশির মনিরের কার্যক্রমের প্রচার মাধ্যম শিশির মনির মিডিয়া সেল-এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে বলা হয়, দিরাই-শাল্লা থেকে বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। আজকের এই দিনে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী নাছির উদ্দীন চৌধুরী তাঁর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। উল্লেখ্য, এই আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাছির চৌধুরী একাধিকবার সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
শুধু আনুষ্ঠানিক পোস্টেই সীমাবদ্ধ নয়, নির্বাচনী প্রচারণার বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও এই দুই প্রার্থী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নাম টেনে আনছেন। বক্তৃতায় তাঁরা দিরাই-শাল্লার রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সম্প্রীতি এবং গণমানুষের রাজনীতিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন।
প্রয়াত এই রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৪৫ সালের ৫ মে দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মৃত্যু হয় ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। তাঁর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তাঁর স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তা। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী নাছির চৌধুরী সাবেক সংসদ সদস্য এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি। এ ছাড়া এই আসনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আইনজীবী নিরঞ্জন দাস খোকন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সরকারের রেলমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। দেশে-বিদেশে তিনি একজন প্রাজ্ঞ সংসদ সদস্য ও স্পষ্টভাষী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সুনামগঞ্জের মানুষ ভালোবেসে তাঁকে ডাকতেন ‘ভাটি বাংলার নেতা’ নামে।
কালনী ভিউ ডেস্কঃ 













