লন্ডন ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীদের চরম ভোগান্তি

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল–এ রোগীদের চরম ভোগান্তি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দায়িত্বহীনতার চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে চিকিৎসকরা নিজেদের মতো রুটিন তৈরি করে রোগীদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি সারাদিন বসিয়ে রেখে শেষ মুহূর্তে চিকিৎসা না দিয়েই রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও নিয়মিত হয়ে উঠেছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) মাইনর সার্জারি সেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে এমনই এক অমানবিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের একজন জানান, তিনি পেশায় সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে হাসপাতালে অপেক্ষা করেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও)-এর মৌখিক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের একজন ছুটিতে থাকার অজুহাত দেন এবং অন্যজন একটি অপারেশন শেষে ক্লান্তির কথা জানিয়ে বাকি রোগীদের পরদিন আসতে বলেন।

ভুক্তভোগী ওই রোগী দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন টেবিলে ও চিকিৎসকদের কক্ষে ঘুরেও কোনো বিশেষজ্ঞ সেবা পাননি। শেষ পর্যন্ত আরএমও’র হস্তক্ষেপে জরুরি বিভাগের একজন আউটসোর্সিং কর্মী দিয়ে তার মাইনর সার্জারি সম্পন্ন করা হয়। উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কেন সেবা দেননি—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের আরএমও ডা. রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেন, অনেক সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রশাসনিক নির্দেশনা মানতে চান না। তিনি বলেন, সেবা দেওয়া সম্ভব না হলে রোগীদের শুরুতেই জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল; সারাদিন বসিয়ে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি দায়িত্ব পালনের চেয়ে অনেক চিকিৎসক বাইরের ক্লিনিক বা ব্যক্তিগত চেম্বারে বেশি সময় দেন। ইচ্ছাকৃতভাবে হাসপাতালে সেবার সংকট তৈরি করে রোগীদের বাইরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ট্যাগ:

নগরপিতার খোঁজে বিএনপি: সিলেটে ভারসাম্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীদের চরম ভোগান্তি

প্রকাশের সময়: ০১:০৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল–এ রোগীদের চরম ভোগান্তি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দায়িত্বহীনতার চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে চিকিৎসকরা নিজেদের মতো রুটিন তৈরি করে রোগীদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি সারাদিন বসিয়ে রেখে শেষ মুহূর্তে চিকিৎসা না দিয়েই রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও নিয়মিত হয়ে উঠেছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) মাইনর সার্জারি সেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে এমনই এক অমানবিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের একজন জানান, তিনি পেশায় সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে হাসপাতালে অপেক্ষা করেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও)-এর মৌখিক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের একজন ছুটিতে থাকার অজুহাত দেন এবং অন্যজন একটি অপারেশন শেষে ক্লান্তির কথা জানিয়ে বাকি রোগীদের পরদিন আসতে বলেন।

ভুক্তভোগী ওই রোগী দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন টেবিলে ও চিকিৎসকদের কক্ষে ঘুরেও কোনো বিশেষজ্ঞ সেবা পাননি। শেষ পর্যন্ত আরএমও’র হস্তক্ষেপে জরুরি বিভাগের একজন আউটসোর্সিং কর্মী দিয়ে তার মাইনর সার্জারি সম্পন্ন করা হয়। উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কেন সেবা দেননি—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের আরএমও ডা. রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেন, অনেক সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রশাসনিক নির্দেশনা মানতে চান না। তিনি বলেন, সেবা দেওয়া সম্ভব না হলে রোগীদের শুরুতেই জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল; সারাদিন বসিয়ে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি দায়িত্ব পালনের চেয়ে অনেক চিকিৎসক বাইরের ক্লিনিক বা ব্যক্তিগত চেম্বারে বেশি সময় দেন। ইচ্ছাকৃতভাবে হাসপাতালে সেবার সংকট তৈরি করে রোগীদের বাইরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।