সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিএনপির ব্যানারে জুলাই স্মরণ সমাবেশে প্রত্যাশার তুলনায় কম লোকসমাগমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দিরাই পৌরসভার থানা পয়েন্টে এ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা প্রচার করা হলেও বাস্তবে প্রত্যাশিত সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়নি। জনসভাস্থলের একপাশ, বিশেষ করে কলেজ রোডের একটি বড় অংশ প্রায় ফাঁকাই ছিল। মঞ্চের সামনে এবং পাশের একটি মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় সীমিত সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
দলীয় সূত্রের দাবি, গত প্রায় এক মাস ধরে দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম কার্যত দুই ধারায় পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, পৃথক যৌথ সভা, অব্যাহতির সুপারিশ, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধ এবং পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে।
ইউনিয়ন পর্যায়ের একাধিক বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জনসভায় কম উপস্থিতির অন্যতম কারণ ছিল দুর্বল সাংগঠনিক প্রস্তুতি। তাঁদের ভাষ্য, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে কর্মীদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অনেক এলাকায় নেতাকর্মীদের সমাবেশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগও দেখা যায়নি।
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা কমিটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা গ্রুপভিত্তিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণায় গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁরা শুধু নিজেদের অনুসারীদের নিয়েই সক্রিয় ছিলেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী নিজেদের উপেক্ষিত মনে করে সমাবেশ থেকে দূরে ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক প্রবীণ নেতা বলেন, এক সময় নাছির উদ্দীন চৌধুরীর জনসভার ঘোষণা এলেই হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হতেন। আমরা অতীতে দিরাইয়ে অনেক বড় রাজনৈতিক সমাবেশ করেছি। কিন্তু এবার যে উপস্থিতি হয়েছে, তা আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে কোনোভাবেই মিলেনি। এটি দলের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সবাইকে সম্পৃক্ত করে সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হলে উপস্থিতি আরও বেশি হতে পারত।
এ বিষয়ে দিরাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, একটি সিন্ডিকেট সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে ঘিরে দলীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থক জনসভায় আসেননি। আমার তথ্য অনুযায়ী, জনসভায় উপস্থিতি তিন থেকে চারশ জনের বেশি ছিল না।
তিনি আরও বলেন, আমরা মূলধারার বিএনপির উদ্যোগে আগামী ৮ আগস্ট সমাবেশের আয়োজন করেছি। আমাদের বিশ্বাস, এটি দিরাইয়ের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হবে এবং তৃণমূলের প্রকৃত শক্তির প্রতিফলন ঘটবে।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও লেখা পর্যন্ত তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কালনী ভিউ ডেস্কঃ 










