লন্ডন ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজার শিশুদের নিয়ে গার্দিওলার আক্ষেপ

গাজায় চলমান অমানবিক পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা সহিংসতার বিরুদ্ধে আবারও সরব হয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজার শিশুদের পরিত্যাগ করেছে, যা মানবতার জন্য নৈতিক ব্যর্থতা। বৃহস্পতিবার বার্সেলোনায় আয়োজিত একটি দাতব্য কনসার্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বার্সেলোনার পালাউ সান্ত জর্দি অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ‘কনসার্ট ফর প্যালেস্টাইন’-এর মঞ্চে ওঠেন গার্দিওলা। ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ পরিধান করে হাজারো দর্শকের সামনে তিনি বলেন, ‘আমরা নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়াই। আজ আমরা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছি।’ এই কনসার্টটি ইউরোপীয় নাগরিক সমাজ ও ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে।

গার্দিওলার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল যুদ্ধে শিশুদের ওপর পড়া ভয়াবহ প্রভাব। তিনি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মোবাইলে ধারণ করা একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করেন, যেখানে এক শিশু কাঁদতে কাঁদতে তার মাকে ডাকছিল, অথচ সে বুঝতেই পারছিল না তার সঙ্গে কী ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় ভাবি, শিশুরা কী ভাবছে। আমরা তাদের একা ফেলে রেখেছি।’

তিনি কল্পনা করেন, ‘শিশুরা সাহায্যের জন্য সারা বিশ্বের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু আজও আমরা তা করিনি।’ আন্তর্জাতিক নেতাদের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তাকেই চলমান সহিংসতার বড় কারণ হিসেবে দেখান গার্দিওলা। গার্দিওলার ভাষায়, ‘বোমার উদ্দেশ্যই হলো সবাইকে নীরব করে দেওয়া এবং অন্যদিকে তাকাতে বাধ্য করা। এটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য, যা আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে।’

১৯৩৮ সালে বার্সেলোনায় বোমাবর্ষণের কথা স্মরণ করে গার্দিওলা বলেন, ‘বার্সেলোনা, লন্ডন ও প্যারিসের মতো শহরগুলো জানে আকাশপথে বোমার নিচে বেঁচে থাকার অর্থ কী।’ তার মতে, আজ ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো মানে মানবতার বৃহত্তর দায়িত্ব থেকে দুর্বলদের পক্ষ নেওয়া। প্রায় ১২ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কনসার্টে একাধিক শিল্পী অংশ নেন এবং ফিলিস্তিনির জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়। উল্লেখ্য, গার্দিওলা এর আগেও দাতব্য ম্যাচের আহ্বান, গাজা যুদ্ধের নিন্দা এবং বিশ্বনেতাদের উদাসীনতা নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়েছেন।

ট্যাগ:

গাজার শিশুদের নিয়ে গার্দিওলার আক্ষেপ

প্রকাশের সময়: ০৯:৪৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

গাজায় চলমান অমানবিক পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা সহিংসতার বিরুদ্ধে আবারও সরব হয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজার শিশুদের পরিত্যাগ করেছে, যা মানবতার জন্য নৈতিক ব্যর্থতা। বৃহস্পতিবার বার্সেলোনায় আয়োজিত একটি দাতব্য কনসার্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বার্সেলোনার পালাউ সান্ত জর্দি অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ‘কনসার্ট ফর প্যালেস্টাইন’-এর মঞ্চে ওঠেন গার্দিওলা। ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ পরিধান করে হাজারো দর্শকের সামনে তিনি বলেন, ‘আমরা নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়াই। আজ আমরা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছি।’ এই কনসার্টটি ইউরোপীয় নাগরিক সমাজ ও ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে।

গার্দিওলার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল যুদ্ধে শিশুদের ওপর পড়া ভয়াবহ প্রভাব। তিনি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মোবাইলে ধারণ করা একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করেন, যেখানে এক শিশু কাঁদতে কাঁদতে তার মাকে ডাকছিল, অথচ সে বুঝতেই পারছিল না তার সঙ্গে কী ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় ভাবি, শিশুরা কী ভাবছে। আমরা তাদের একা ফেলে রেখেছি।’

তিনি কল্পনা করেন, ‘শিশুরা সাহায্যের জন্য সারা বিশ্বের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু আজও আমরা তা করিনি।’ আন্তর্জাতিক নেতাদের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তাকেই চলমান সহিংসতার বড় কারণ হিসেবে দেখান গার্দিওলা। গার্দিওলার ভাষায়, ‘বোমার উদ্দেশ্যই হলো সবাইকে নীরব করে দেওয়া এবং অন্যদিকে তাকাতে বাধ্য করা। এটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য, যা আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে।’

১৯৩৮ সালে বার্সেলোনায় বোমাবর্ষণের কথা স্মরণ করে গার্দিওলা বলেন, ‘বার্সেলোনা, লন্ডন ও প্যারিসের মতো শহরগুলো জানে আকাশপথে বোমার নিচে বেঁচে থাকার অর্থ কী।’ তার মতে, আজ ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো মানে মানবতার বৃহত্তর দায়িত্ব থেকে দুর্বলদের পক্ষ নেওয়া। প্রায় ১২ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কনসার্টে একাধিক শিল্পী অংশ নেন এবং ফিলিস্তিনির জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়। উল্লেখ্য, গার্দিওলা এর আগেও দাতব্য ম্যাচের আহ্বান, গাজা যুদ্ধের নিন্দা এবং বিশ্বনেতাদের উদাসীনতা নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়েছেন।