লন্ডন ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত: সংগ্রাম ও সংসদের এক উজ্জ্বল অধ্যায়

জাতীয় রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক সুপরিচিত নাম, প্রবীণ রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য নিবেদিত এই সংগ্রামী রাজনীতিকের বর্ণাঢ্য জীবন ও অবদান।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৪৫ সালের ৫ মে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিরাই হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক, সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি নিয়ে আইন পেশায় যুক্ত হন এবং একজন আইনজীবী হিসেবেই তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন। স্বাধীনতার আগে ও পরে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং প্রগতিশীল রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসিত।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বারবার নির্বাচিত হয়ে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। বিভিন্ন সংসদে তিনি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং সংসদের আইন ও বিচার বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মন্ত্রিসভা থেকে সরে গেলেও সংসদীয় রাজনীতি ও আইন প্রণয়নে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত ছিল এবং তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বক্তব্য সংসদে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হতো।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি টেকেরঘাট সাব-সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অবদান জাতির ইতিহাসে সম্মানের সঙ্গে স্মরণীয়। এছাড়া তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সংবিধান প্রণয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭১ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁর সংসদীয় আসনটি পরবর্তীতে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জয়া সেনগুপ্ত লাভ করেন। তিনি ২০১৭ সালের উপনির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা এই প্রবীণ রাজনীতিকের গণতন্ত্র, সংবিধান ও মানুষের অধিকারের পক্ষে আজীবন সংগ্রামের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন। সংগ্রাম, প্রজ্ঞা ও সাহসী উচ্চারণে ভর করে গড়ে ওঠা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক জীবন আগামী প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ট্যাগ:

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত: সংগ্রাম ও সংসদের এক উজ্জ্বল অধ্যায়

প্রকাশের সময়: ০৭:০৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক সুপরিচিত নাম, প্রবীণ রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য নিবেদিত এই সংগ্রামী রাজনীতিকের বর্ণাঢ্য জীবন ও অবদান।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৪৫ সালের ৫ মে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিরাই হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক, সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি নিয়ে আইন পেশায় যুক্ত হন এবং একজন আইনজীবী হিসেবেই তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন। স্বাধীনতার আগে ও পরে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং প্রগতিশীল রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসিত।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বারবার নির্বাচিত হয়ে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। বিভিন্ন সংসদে তিনি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং সংসদের আইন ও বিচার বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মন্ত্রিসভা থেকে সরে গেলেও সংসদীয় রাজনীতি ও আইন প্রণয়নে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত ছিল এবং তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বক্তব্য সংসদে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হতো।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি টেকেরঘাট সাব-সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অবদান জাতির ইতিহাসে সম্মানের সঙ্গে স্মরণীয়। এছাড়া তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সংবিধান প্রণয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭১ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁর সংসদীয় আসনটি পরবর্তীতে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জয়া সেনগুপ্ত লাভ করেন। তিনি ২০১৭ সালের উপনির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা এই প্রবীণ রাজনীতিকের গণতন্ত্র, সংবিধান ও মানুষের অধিকারের পক্ষে আজীবন সংগ্রামের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন। সংগ্রাম, প্রজ্ঞা ও সাহসী উচ্চারণে ভর করে গড়ে ওঠা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক জীবন আগামী প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।