মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ডা. আশরাফুজ্জামান লিটনের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করছে। তিনি বলেন, এসব অপপ্রচারের পরও তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
তিনি জানান, শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন এবং রোগীদের সেবাপ্রাপ্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি ও সরকারি বিধি-বিধান মেনে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যাতে কোনো রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
সম্প্রতি একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ডা. লিটন বলেন, গত রবিবার কয়েকজন ব্যক্তি সংবাদ সংগ্রহের কথা বলে তার সঙ্গে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। এতে বিভ্রান্তিকর আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য, চিকিৎসকদের সরকারি অফিস সময় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী তিনি দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে হাসপাতাল ত্যাগ করছিলেন। এছাড়া ভিডিওতে আলোচিত গাড়িটি তার ব্যক্তিগত নয় বলেও তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িচালক সরকারি চালক নন; তিনি একটি প্রকল্পের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন এবং প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মানবিক কারণে তাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ডা. লিটন আরও বলেন, সাংবাদিকতা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশা। তাই কোনো তথ্য প্রকাশের আগে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অতীতেও বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি। তার বিরুদ্ধে পরিচালিত অপপ্রচারকে তিনি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের অপতৎপরতা বলে মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে।
ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন বলেন, “আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত রাখলে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
তিনি একই সঙ্গে জনসাধারণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।
কালনী ভিউ ডেস্কঃ 


















