ঢাকায় পাউবো কর্মকর্তার বাসায় শাল্লার শিশু গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বাসায় কর্মরত সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৯ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলেও পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি ধানমন্ডির একটি বহুতল ভবনের ১০ তলায় অবস্থিত পাউবোর ওই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। শুক্রবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জিগাতলার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পৌঁছান শিশুটির বাবা-মা। সেখানে তারা অভিযোগ করেন, তাদের মেয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় এবং তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।

শিশুটির বাবা বলেন, কোরবানির ঈদের প্রায় ১৫ দিন আগে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে মাসিক চার হাজার টাকা বেতনে মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠানো হয়েছিল। কয়েক দিন আগে মেয়েটি ফোনে তার মায়ের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, সে আর ওই বাসায় থাকতে চায় না। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলে নানা অজুহাতে তা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, “গত কয়েক দিন ধরে মেয়েটি বারবার বাড়ি ফিরতে চাইছিল। শুক্রবার সকালে ফোনে প্রথমে জানানো হয় সে অসুস্থ। পরে ঢাকায় এসে জানতে পারি সে ভবন থেকে পড়ে গেছে। আমার বিশ্বাস, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমন্ডি বিভাগের সহকারী কমিশনার গণমাধ্যমকে বলেন, গৃহকর্তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শিশুটি ভবনের ছাদে গিয়েছিল এবং সেখান থেকে নিচে পড়ে যায়। তবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলা যাবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাউবোর ওই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায়। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়। তার বাবা পেশায় দিনমজুর।

এদিকে শিশু গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে শিশু গৃহকর্মীদের মৃত্যু ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে ঘটছে। তাই এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ:

ঢাকায় পাউবো কর্মকর্তার বাসায় শাল্লার শিশু গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

ঢাকায় পাউবো কর্মকর্তার বাসায় শাল্লার শিশু গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশের সময়: ০৭:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বাসায় কর্মরত সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৯ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলেও পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি ধানমন্ডির একটি বহুতল ভবনের ১০ তলায় অবস্থিত পাউবোর ওই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। শুক্রবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জিগাতলার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পৌঁছান শিশুটির বাবা-মা। সেখানে তারা অভিযোগ করেন, তাদের মেয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় এবং তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।

শিশুটির বাবা বলেন, কোরবানির ঈদের প্রায় ১৫ দিন আগে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে মাসিক চার হাজার টাকা বেতনে মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠানো হয়েছিল। কয়েক দিন আগে মেয়েটি ফোনে তার মায়ের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, সে আর ওই বাসায় থাকতে চায় না। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলে নানা অজুহাতে তা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, “গত কয়েক দিন ধরে মেয়েটি বারবার বাড়ি ফিরতে চাইছিল। শুক্রবার সকালে ফোনে প্রথমে জানানো হয় সে অসুস্থ। পরে ঢাকায় এসে জানতে পারি সে ভবন থেকে পড়ে গেছে। আমার বিশ্বাস, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমন্ডি বিভাগের সহকারী কমিশনার গণমাধ্যমকে বলেন, গৃহকর্তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শিশুটি ভবনের ছাদে গিয়েছিল এবং সেখান থেকে নিচে পড়ে যায়। তবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলা যাবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাউবোর ওই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায়। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়। তার বাবা পেশায় দিনমজুর।

এদিকে শিশু গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে শিশু গৃহকর্মীদের মৃত্যু ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে ঘটছে। তাই এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।