সুনামগঞ্জের দিরাই বাজার মহাজন কমিটির আয়োজনে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানস্থলের অবস্থান, পাশেই দুটি মসজিদ থাকা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইলে মতামত প্রকাশ করেছেন।
দিরাই বাজারের ব্যবসায়ী ও মহাজন সমিতির সদস্য ওবায়দুল হক চৌধুরী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্থান থেকে অল্প দূরত্বে পূর্ব বাজার জামে মসজিদ ও বাজার মসজিদ অবস্থিত। তিনি এ ধরনের আয়োজনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করেন, পরিকল্পনা সভায় উপস্থিত থাকলে তিনি এর বিরোধিতা করতেন। পরে অনুষ্ঠানের পোস্টারে সাংস্কৃতিক আয়োজনের বিষয়টি দেখে আপত্তি জানান এবং এ কারণেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি বলেও উল্লেখ করেন।
পৌর সদরের মাদানী মহল্লা এলাকার ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান ছাদী লিখেছেন, অন্যায়, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। তিনি বলেন, এ দায়িত্ব শুধু আলেম সমাজের নয়, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরও।
দিরাই বাজারের হাইস্কুল রোডস্থ দিরাই মেডিকেল হলের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান রাজু তার স্ট্যাটাসে এ ধরনের আয়োজনের কঠোর সমালোচনা করে বাজারবাসীর জন্য দোয়া কামনা করেন।
সর্দার আক্তার নামের এক নেটিজেনও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে লিখেছেন, এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করা শুধু আলেমদের দায়িত্ব নয় বরং প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
মাদ্রাসা শিক্ষক এম আবিদুর রহমান তার স্ট্যাটাসে দাবি করেন, একটি সুন্দর আয়োজনকে কিছু অযোগ্য মানুষের কর্মকাণ্ড কলুষিত করেছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নামে যা হয়েছে, তা লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্র জমিয়ত দিরাই উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদ তালুকদার লিখেছেন, প্রথমে মোবাইলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান দেখে ভালো লাগলেও পরে কিছু মানুষের কর্মকাণ্ডে অনুষ্ঠানটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব এবং সবাইকে এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে সাফিউল করিম নামের আরেক নেটিজেন তার স্ট্যাটাসে বাজারের মাঝখানে, দুই পাশে মসজিদ থাকা অবস্থায় এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমালোচনা করেন।
সোমবার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর ফেসবুকে দেওয়া এসব স্ট্যাটাস স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে দিরাই বাজার মহাজন কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

















