দিরাইয়ে বিদ্যুতের লাইন থেকে আগুন, ১২ কৃষকের বসতঘর পুড়ে ছাই

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইনে শর্টসার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২টি কৃষক পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরবাড়ির পাশাপাশি ধান-চাল, বীজধান, সার-কীটনাশক, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারালিয়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের মেইন পিলারে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে একটি বসতঘরে আগুন লাগলেও মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১৫টি কৃষক পরিবারের বসতঘর ও ঘরে থাকা মালামাল পুড়ে যায়।

স্থানীয়রা আরো জানান, আগুন লাগার পরপরই গ্রামবাসী তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে দিরাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। তবে গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে তাদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় গ্রামবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো থাকলে জরুরি মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারত।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনে তাদের সারা বছরের কষ্টের ফসল, ঘরে মজুত রাখা ধান-চাল, বীজধান, কৃষিকাজের জন্য সংরক্ষিত সার ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে গেছে। অনেকেই ঘর থেকে কোনো মালামাল বের করার সুযোগ পাননি। মুহূর্তের মধ্যে সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপনের আশঙ্কায় পড়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের জন্য পল্লী বিদ্যুতের লাইন রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলাকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের মেইন লাইন ও পিলার যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, পল্লী বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত সবাই কৃষক।

ট্যাগ:

দিরাইয়ে বিদ্যুতের লাইন থেকে আগুন, ১২ কৃষকের বসতঘর পুড়ে ছাই

প্রকাশের সময়: ০৬:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইনে শর্টসার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২টি কৃষক পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরবাড়ির পাশাপাশি ধান-চাল, বীজধান, সার-কীটনাশক, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারালিয়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের মেইন পিলারে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে একটি বসতঘরে আগুন লাগলেও মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১৫টি কৃষক পরিবারের বসতঘর ও ঘরে থাকা মালামাল পুড়ে যায়।

স্থানীয়রা আরো জানান, আগুন লাগার পরপরই গ্রামবাসী তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে দিরাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। তবে গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে তাদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় গ্রামবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো থাকলে জরুরি মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারত।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনে তাদের সারা বছরের কষ্টের ফসল, ঘরে মজুত রাখা ধান-চাল, বীজধান, কৃষিকাজের জন্য সংরক্ষিত সার ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে গেছে। অনেকেই ঘর থেকে কোনো মালামাল বের করার সুযোগ পাননি। মুহূর্তের মধ্যে সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপনের আশঙ্কায় পড়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের জন্য পল্লী বিদ্যুতের লাইন রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলাকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের মেইন লাইন ও পিলার যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, পল্লী বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত সবাই কৃষক।