বিশ্বকাপের আগে যে দুশ্চিন্তায় মেসির আর্জেন্টিনা

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলে অভিজ্ঞতা ও প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগ পর্যন্ত রয়েছে শক্ত ভিত্তি। তবু মাঠের বাইরের এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঘিরে ধরেছে কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের। বিশ্বকাপের আগে ম্যাচ খেলতে না পারার শঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা আলবিসেলেস্তেদের।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার একমাত্র নির্ধারিত ম্যাচ ছিল ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ফিনালিসিমা। দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়নদের এই লড়াই ঘিরে ছিল আলাদা উত্তেজনা। ম্যাচটি আগামী ২৭ মার্চ কাতারে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কাতারে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ায় সব ধরনের ক্রীড়া আয়োজন স্থগিত রয়েছে। ফলে নির্ধারিত ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজনের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। আয়োজকরা বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ভেন্যু মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম এবং নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম নিয়ে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ইউরোপে সরিয়ে নেয়ার পক্ষেই জোর দিচ্ছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, ফলে ফিনালিসিমা আদৌ নির্ধারিত সময়সূচিতে হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

ফিনালিসিমার চার দিন পর কাতারে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল উৎসবে অংশ নেয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। সেখানে প্রীতি ম্যাচ খেলত তারা, এবং একই আয়োজনে অংশ নেয়ার কথা ছিল স্পেন ছাড়াও মিসর, সৌদি আরব ও সার্বিয়ার। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই টুর্নামেন্ট কার্যত বাতিল হয়ে গেছে।

এই বাতিল হওয়া আয়োজনটি ছিল স্কালোনির জন্য দলকে পরখ করে নেওয়ার বড় সুযোগ। মূল একাদশের বাইরে থাকা ফুটবলারদের ম্যাচ অভিজ্ঞতা দেয়া, নতুন কৌশল পরীক্ষা এবং বিকল্প পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ মিলত সেখানে। এখন সেই সম্ভাবনাও নেই।

জুনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। লাস ভেগাস ও মায়ামিতে নির্ধারিত ছিল ম্যাচ দুটি। তবে বিভিন্ন লজিস্টিক জটিলতা ও সূচি সমস্যার কারণে সেগুলোও ক্যালেন্ডার থেকে বাদ পড়েছে। ফলে বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার হাতে কার্যত কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ নেই বললেই চলে।

একটি বড় টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয় এগুলোই হয় মূল পরীক্ষার মঞ্চ। দলগত সমন্বয় ঝালিয়ে নেয়া, নতুন কৌশল প্রয়োগ, ইনজুরি থেকে ফেরা খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস যাচাই সবকিছুই নির্ভর করে এসব ম্যাচের ওপর। স্কালোনির দল গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে। তবু বিশ্বকাপের মতো আসরে সামান্য প্রস্তুতি ঘাটতিও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যখন শিরোপা রক্ষার চাপও রয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অভিযান শুরু হবে ১৬ জুন, কানসাসে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। অর্থাৎ আর প্রায় ১০০ দিনের মতো সময় বাকি। এই স্বল্প সময়ে যদি নতুন কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন করা না যায়, তবে ফিনালিসিমাই হবে একমাত্র বড় পরীক্ষা বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের শেষ মঞ্চ।

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

দিরাই শহরে পানির তীব্র সংকট, দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা

বিশ্বকাপের আগে যে দুশ্চিন্তায় মেসির আর্জেন্টিনা

প্রকাশের সময়: ১২:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলে অভিজ্ঞতা ও প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগ পর্যন্ত রয়েছে শক্ত ভিত্তি। তবু মাঠের বাইরের এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঘিরে ধরেছে কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের। বিশ্বকাপের আগে ম্যাচ খেলতে না পারার শঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা আলবিসেলেস্তেদের।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার একমাত্র নির্ধারিত ম্যাচ ছিল ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ফিনালিসিমা। দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়নদের এই লড়াই ঘিরে ছিল আলাদা উত্তেজনা। ম্যাচটি আগামী ২৭ মার্চ কাতারে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কাতারে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ায় সব ধরনের ক্রীড়া আয়োজন স্থগিত রয়েছে। ফলে নির্ধারিত ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজনের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। আয়োজকরা বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ভেন্যু মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম এবং নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম নিয়ে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ইউরোপে সরিয়ে নেয়ার পক্ষেই জোর দিচ্ছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, ফলে ফিনালিসিমা আদৌ নির্ধারিত সময়সূচিতে হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

ফিনালিসিমার চার দিন পর কাতারে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল উৎসবে অংশ নেয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। সেখানে প্রীতি ম্যাচ খেলত তারা, এবং একই আয়োজনে অংশ নেয়ার কথা ছিল স্পেন ছাড়াও মিসর, সৌদি আরব ও সার্বিয়ার। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই টুর্নামেন্ট কার্যত বাতিল হয়ে গেছে।

এই বাতিল হওয়া আয়োজনটি ছিল স্কালোনির জন্য দলকে পরখ করে নেওয়ার বড় সুযোগ। মূল একাদশের বাইরে থাকা ফুটবলারদের ম্যাচ অভিজ্ঞতা দেয়া, নতুন কৌশল পরীক্ষা এবং বিকল্প পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ মিলত সেখানে। এখন সেই সম্ভাবনাও নেই।

জুনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। লাস ভেগাস ও মায়ামিতে নির্ধারিত ছিল ম্যাচ দুটি। তবে বিভিন্ন লজিস্টিক জটিলতা ও সূচি সমস্যার কারণে সেগুলোও ক্যালেন্ডার থেকে বাদ পড়েছে। ফলে বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার হাতে কার্যত কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ নেই বললেই চলে।

একটি বড় টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয় এগুলোই হয় মূল পরীক্ষার মঞ্চ। দলগত সমন্বয় ঝালিয়ে নেয়া, নতুন কৌশল প্রয়োগ, ইনজুরি থেকে ফেরা খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস যাচাই সবকিছুই নির্ভর করে এসব ম্যাচের ওপর। স্কালোনির দল গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে। তবু বিশ্বকাপের মতো আসরে সামান্য প্রস্তুতি ঘাটতিও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যখন শিরোপা রক্ষার চাপও রয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অভিযান শুরু হবে ১৬ জুন, কানসাসে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। অর্থাৎ আর প্রায় ১০০ দিনের মতো সময় বাকি। এই স্বল্প সময়ে যদি নতুন কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন করা না যায়, তবে ফিনালিসিমাই হবে একমাত্র বড় পরীক্ষা বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের শেষ মঞ্চ।