সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংগঠন সম্মিলিত নাট্য পরিষদকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের অভিযোগ, বিগত প্রায় ১৭ বছর সংগঠনটি আওয়ামী লীগের আশীর্বাদপুষ্ট সাংস্কৃতিক বলয়ের অংশ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এ সময় সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল।
বিশেষ করে সংগঠনটির পরিচালক সামসুল বাসিত ‘শেরো’কে ঘিরে সমালোচনা বেশি দেখা যাচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা রজত কান্তি গুপ্ত ও সামসুল আলম সেলিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন। সমালোচকরা তাকে “ফ্যাসিস্টদের অনুসারী” হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন এবং প্রশ্ন তুলছেন-বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও তিনি ও তার ঘনিষ্ঠরা আড়ালে একই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছেন কিনা।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকের মতে, দীর্ঘদিন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পর হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করে নতুন প্রেক্ষাপটে সক্রিয় হওয়ার প্রবণতা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাদের ভাষ্য, সংস্কৃতি চর্চা যদি কোনো দলীয় উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তাহলে তা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় উঠে এসেছে, অতীত ভূমিকা ও অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।
সিলেট জেলা জাসাসের আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন তরফদার এ বিষয়ে বলেন, আমরা দেখেছি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। তবে আমরা এটাও নিশ্চিত করতে চাই বিএনপি সাংস্কৃতিক চর্চার বিপক্ষে নয়, সবাইকে নিয়েই এগোতে চায়। তবে তা অবশ্যই ফ্যাসিস্ট বা ফ্যাসিস্টের আশীর্বাদপুষ্টমুক্ত হতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সুস্থ ধারা বজায় রাখতে সকল সংগঠনের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, সংস্কৃতি অঙ্গনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে হলে অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সিলেট প্রতিনিধিঃ 


















