ভারি বৃষ্টি ও ঢলে সিলেটে বন্যার শঙ্কা

য়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলের প্রভাবে দ্রুত বাড়ছে সিলেট অঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে দু-এক দিনের মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর বেশিরভাগ পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।সিলেট বিভাগের সারি, গোয়াইন, লোভাছড়া, ধলাই নদীর পানিও সমান তালে বৃদ্ধি পাচ্ছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডও সতর্কতা দিয়ে বলছে, আগামী তিন দিন পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকে পড়তে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে রোববার সকালে জানেনো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত) ৩৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরআগের ২৪ ঘন্টায় হয়েছিলো ১৪২ মিলিমিটার। রোববা দুপুরে এ রিপোর্ট লেখার সময়ও বৃষ্টি হচ্ছিলো।আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টির তীব্রতা কমার সম্ভাবনা নেই।বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী চার দিন সিলেট বিভাগ এবং এর উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পড়বে এবং নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন কর্মকর্তারা।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের মাত্রা এবং উজান থেকে আসা পানির প্রবাহের ওপরই নির্ভর করবে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি।পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমার পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১২.২০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২.৭৫ সেন্টিমিটার। সুরমার পানি সিলেট পয়েন্টে ৯.৩৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহমান রয়েছে। এখানে বিপৎসীমা ১০.৮০ সেন্টিমিটার।কুশিয়ারার পানি জকিগঞ্জের অমলশীদ পয়েন্টে ১৩.১৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ১৫.৪০ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারার পানি বিয়ানীবাজার শেওলা পয়েন্টে ১০.৭৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখানে বিপৎসীমা ১৩.০৫ সেন্টিমিটার এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০.৪৫ সেন্টিমিটার এবং প্রবাহিত হচ্ছে ৯.০৭ সেন্টিমিটার দিয়ে।জৈন্তাপুরের সারিঘাট বিপৎসীমা ১২.৩৫, প্রবাহিত হচ্ছে ৯.৭৩ সেন্টিমিটার দিয়ে। জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে ৮.৯৭ সেন্টিমিটার দিয়ে পানি প্রবাহমান, বিপৎসীমা ১৩ সেন্টিমিটার দিয়ে। গোয়াইনঘাট সারিগোয়াইন দিয়ে ৮.৭৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহমান, বিপৎসীমা ১০.৮২ সেন্টিমিটার। কানাইঘাটের লোভাছড়ায় ১২.৮০ সেন্টিমিটার এবং জেলার কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীর পানি ৮.২৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।পানি উন্নয়ন বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ভারতের মেঘালয় পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের শঙ্কা আছে। ওখানে বেশি বৃষ্টিপাত হলে সিলেটের নদ-নদী বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে।’

ট্যাগ:

ভারি বৃষ্টি ও ঢলে সিলেটে বন্যার শঙ্কা

প্রকাশের সময়: ০৯:২১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

য়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলের প্রভাবে দ্রুত বাড়ছে সিলেট অঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে দু-এক দিনের মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর বেশিরভাগ পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।সিলেট বিভাগের সারি, গোয়াইন, লোভাছড়া, ধলাই নদীর পানিও সমান তালে বৃদ্ধি পাচ্ছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডও সতর্কতা দিয়ে বলছে, আগামী তিন দিন পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকে পড়তে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে রোববার সকালে জানেনো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত) ৩৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরআগের ২৪ ঘন্টায় হয়েছিলো ১৪২ মিলিমিটার। রোববা দুপুরে এ রিপোর্ট লেখার সময়ও বৃষ্টি হচ্ছিলো।আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টির তীব্রতা কমার সম্ভাবনা নেই।বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী চার দিন সিলেট বিভাগ এবং এর উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পড়বে এবং নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন কর্মকর্তারা।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের মাত্রা এবং উজান থেকে আসা পানির প্রবাহের ওপরই নির্ভর করবে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি।পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমার পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১২.২০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২.৭৫ সেন্টিমিটার। সুরমার পানি সিলেট পয়েন্টে ৯.৩৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহমান রয়েছে। এখানে বিপৎসীমা ১০.৮০ সেন্টিমিটার।কুশিয়ারার পানি জকিগঞ্জের অমলশীদ পয়েন্টে ১৩.১৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ১৫.৪০ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারার পানি বিয়ানীবাজার শেওলা পয়েন্টে ১০.৭৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখানে বিপৎসীমা ১৩.০৫ সেন্টিমিটার এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০.৪৫ সেন্টিমিটার এবং প্রবাহিত হচ্ছে ৯.০৭ সেন্টিমিটার দিয়ে।জৈন্তাপুরের সারিঘাট বিপৎসীমা ১২.৩৫, প্রবাহিত হচ্ছে ৯.৭৩ সেন্টিমিটার দিয়ে। জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে ৮.৯৭ সেন্টিমিটার দিয়ে পানি প্রবাহমান, বিপৎসীমা ১৩ সেন্টিমিটার দিয়ে। গোয়াইনঘাট সারিগোয়াইন দিয়ে ৮.৭৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহমান, বিপৎসীমা ১০.৮২ সেন্টিমিটার। কানাইঘাটের লোভাছড়ায় ১২.৮০ সেন্টিমিটার এবং জেলার কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীর পানি ৮.২৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।পানি উন্নয়ন বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ভারতের মেঘালয় পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের শঙ্কা আছে। ওখানে বেশি বৃষ্টিপাত হলে সিলেটের নদ-নদী বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে।’