সমালোচনার মুখে সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

যরত শাহজালাল (রহ.) মাজার-কাণ্ড নিয়ে সমালোচনার মুখে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, আগামীকালই (সোমবার) তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

সিলেটে যোগ দেওয়ার পর প্রথমদিকে তার কিছু কর্মকাণ্ড বেশ প্রশংসিত হলেও সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সারওয়ার আলম। কয়েক শত বছরের রেওয়াজ ভেঙে গত বৃহস্পতির মাজারের দানের ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স বসান সারওয়ার আলম। এই দানবাক্সের পাহারায় আনসার নিযুক্ত ও সিসি ক্যামেরা বসান এই জেলা প্রশাসক।মাজারের আয়ের স্বচ্ছতা আনার কথা বলে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সারওয়ার আলম। তবে মাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাজারবিরোধী এই চক্রের ইন্ধনে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও রেওয়াজ ভেঙে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন।

২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি বঞ্চিত হলে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয়টিকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

সমালোচনার মুখে সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

প্রকাশের সময়: ১১:১৬:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

যরত শাহজালাল (রহ.) মাজার-কাণ্ড নিয়ে সমালোচনার মুখে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, আগামীকালই (সোমবার) তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

সিলেটে যোগ দেওয়ার পর প্রথমদিকে তার কিছু কর্মকাণ্ড বেশ প্রশংসিত হলেও সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সারওয়ার আলম। কয়েক শত বছরের রেওয়াজ ভেঙে গত বৃহস্পতির মাজারের দানের ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স বসান সারওয়ার আলম। এই দানবাক্সের পাহারায় আনসার নিযুক্ত ও সিসি ক্যামেরা বসান এই জেলা প্রশাসক।মাজারের আয়ের স্বচ্ছতা আনার কথা বলে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সারওয়ার আলম। তবে মাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাজারবিরোধী এই চক্রের ইন্ধনে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও রেওয়াজ ভেঙে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন।

২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি বঞ্চিত হলে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয়টিকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।