দিরাইয়ে বিষপ্রয়োগে যুবক হত্যা: ছয় মাস পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিষমিশ্রিত পানি পান করিয়ে এক যুবককে হত্যার আলোচিত মামলার প্রধান পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেটে পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আমিরুল ইসলাম (৫০) দিরাই উপজেলার বুরহানপুর গ্রামের মৃত হাজী মদরিছ মিয়ার ছেলে।

র‍্যাব-৯-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে র‍্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ সুনামগঞ্জ এবং সদর কোম্পানি, সিলেটের যৌথ অভিযানে সিলেটের শাহপরাণ থানার শিবগঞ্জ বাজার এলাকার তামাবিল সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার নথি ও র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত জয় মহাপাত্র (২০) দিরাই উপজেলার ভাঙ্গাডহর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায় একটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কিনেছিলেন। এর মধ্যে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৫০০ টাকা পরে দেওয়ার কথা ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ জানুয়ারি সকালে বকেয়া ৫০০ টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আমিরুল মোবাইলটি নিজের কাছে রেখে বিকেলে দোকানে এসে সিম কার্ড নিয়ে যেতে বলেন। বিকেলে জয় দোকানে গেলে দোকানের দরজা বন্ধ করে তাকে মারধর করা হয়। পরে এক গ্লাসে বিষমিশ্রিত পানি জোরপূর্বক পান করিয়ে সিম কার্ড দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাড়ি ফিরে জয় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বারবার বমি করতে থাকেন। স্বজনরা প্রথমে তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জানুয়ারি সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে দিরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পর থেকেই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে র‍্যাব-৯ গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত চালিয়ে আসছিল। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ:

দিরাইয়ে বিষপ্রয়োগে যুবক হত্যা: ছয় মাস পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

দিরাইয়ে বিষপ্রয়োগে যুবক হত্যা: ছয় মাস পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময়: ১০:২০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিষমিশ্রিত পানি পান করিয়ে এক যুবককে হত্যার আলোচিত মামলার প্রধান পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেটে পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আমিরুল ইসলাম (৫০) দিরাই উপজেলার বুরহানপুর গ্রামের মৃত হাজী মদরিছ মিয়ার ছেলে।

র‍্যাব-৯-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে র‍্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ সুনামগঞ্জ এবং সদর কোম্পানি, সিলেটের যৌথ অভিযানে সিলেটের শাহপরাণ থানার শিবগঞ্জ বাজার এলাকার তামাবিল সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার নথি ও র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত জয় মহাপাত্র (২০) দিরাই উপজেলার ভাঙ্গাডহর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায় একটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কিনেছিলেন। এর মধ্যে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৫০০ টাকা পরে দেওয়ার কথা ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ জানুয়ারি সকালে বকেয়া ৫০০ টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আমিরুল মোবাইলটি নিজের কাছে রেখে বিকেলে দোকানে এসে সিম কার্ড নিয়ে যেতে বলেন। বিকেলে জয় দোকানে গেলে দোকানের দরজা বন্ধ করে তাকে মারধর করা হয়। পরে এক গ্লাসে বিষমিশ্রিত পানি জোরপূর্বক পান করিয়ে সিম কার্ড দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাড়ি ফিরে জয় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বারবার বমি করতে থাকেন। স্বজনরা প্রথমে তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জানুয়ারি সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে দিরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পর থেকেই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে র‍্যাব-৯ গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত চালিয়ে আসছিল। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।