সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় গ্রাম্য পঞ্চায়েতের নামে একাধিক পরিবারকে একঘরে করে রাখা, মানসিক নির্যাতন, হামলা, লুটপাট ও ভয়ভীতির মাধ্যমে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং কেউ কেউ নিজ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ছাতলপাড় গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মৃত ছফা মিয়ার পাঁচ ছেলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিকভাবে একঘরে করার শিকার বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, গ্রাম্য পঞ্চায়েতের নামে তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়, দোকানে আগুন দেওয়া, মালামাল লুটপাট এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এসব ঘটনার পর প্রায় দুই বছর ধরে নূর মিয়া, আবুল ফজল, মাওলানা আবুল কাসেম, আতাউর রহমান, শফিকুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না বলে দাবি করেছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, একই ধরনের পরিস্থিতিতে আরও কয়েকটি পরিবারও এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তারা একাধিকবার দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি। তাদের দাবি, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের প্রভাবে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে আমলে নেওয়া হয়নি, ফলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৪ মার্চ আবুল ফজল বাদী হয়ে একই গ্রামের তারিফ আলী, জইন উদ্দিন, মনির মিয়া, নবাব খান, এহিয়া খান, সুলেমান খান, পাশের সুতারগাঁও গ্রামের শিশি মোহন দাসসহ অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ দায়ের করেন। বাদীপক্ষের দাবি, লুট হওয়া কিছু মালামাল অভিযুক্তদের বাড়িতে রয়েছে বলে পুলিশ পরিদর্শনেও দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত সেগুলো উদ্ধার বা অভিযোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি, গবাদিপশু চরাতে বাধা এবং পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলে সেই সুযোগে বসতঘরে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারটির সদস্য মাওলানা আবুল কাসেম এলাকায় একজন সুপরিচিত ব্যক্তি বলে স্থানীয়রা জানান। ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনিও একইভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিরাপদে নিজ বাড়িতে ফিরে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিরাই থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, গ্রাম্য পঞ্চায়েতের কিছু কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।
কালনী ভিউ ডেস্কঃ 












