”প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ”

দ্য ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে “দিরাইয়ে হাসপাতালের ব্যাটারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বাড়িতে” শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দেবাশীষ রায়।

লিখিত প্রতিবাদে তিনি বলেন, প্রকাশিত সংবাদে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইপিএস সিস্টেমের পুরোনো ব্যাটারি আমার বাসায় রাখার বিষয়টিকে যেভাবে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেকটা ‘তিলকে তাল’ বানিয়ে প্রচার করায় বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। আমি এমন ভিত্তিহীন অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে আইপিএস সিস্টেমের ব্যাটারি অকেজো থাকায় সেটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। পূর্বের আইপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে মূলত চিকিৎসকসহ, ইনডোর ও আউটডোরে আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হত। আমি দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এর প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনাপূর্বক অনুরোধের মাধ্যমে একটি ১৬ কিলোওয়াটের লিথিয়াম ব্যাটারীর ব্যবস্থা করি যার মাধ্যমে হাসপাতালের নিচতলার ইনডোর, ইমার্জেন্সি ও আউটডোর এর একটি বড় অংশ আইপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহর আওতায় আনা সম্ভব হয়। যা লোডশেঢিং এ ভর্তি রোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

অন্যদিকে, পূর্বের আইপিএস সিস্টেমের ০৪(চার) টি ব্যাটারি দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে অনেকটাই অকেজো হয়ে পড়েছিল। সেগুলো দ্বিতীয় তলায় আইপিএস সিস্টেমে ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে মেরামত ও চার্জ করি, যা ভবিষ্যতে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। যেহেতু এইসব টিউব ব্যাটারীতে সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহৃত হয়, সেহেতু স্টোর রুমে রাখা আমার কাছে সমীচীন মনে হয়নি। এছাড়া, স্লোপ সিঁড়ির নিচে পুরাতন মালামালের সাথে রাখাটাও নিরাপদ নয়। কারণ ওই স্থানে বহিরাগত ও মাদকাসক্ত লোকের যাতায়াত প্রায় সময় পরিলক্ষিত হয়, যা প্রশাসনসহ সর্বজন বিধিত। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায়, হাসপাতালের কর্মকর্তা- কর্মচারীগণের সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে ব্যাটারীগুলো আমার জিম্মায় রাখি। যেখানে আমার কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, যদি কোন ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করা আমার উদ্দেশ্য হত তাহলে নিশ্চয় সবার সাথে আলোচনা করে দিন-দুপুরে ব্যাটারীগুলো আমি স্থানান্তর করতাম না।

এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে চাই, হাসপাতালের ওই ব্যাটারি গুলো কোনো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য আমার বাসায় নেওয়া হয়নি এবং হাসপাতালের সম্পদ আত্মসাৎ বা অপব্যবহারের কোনো মন-মানসিকতা নেই। বরং হাসপাতালের সম্পদ নিরাপদে সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে হাসপাতালের প্রয়োজনে ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়ছে।

একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমি ও হাসপাতালের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চালু করা হয়েছে এবং হাসপাতালের সেবার পরিধি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব ইতিবাচক উদ্যোগ প্রচারের পরিবর্তে ০৪ (চার) টি ব্যাটারি নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে আমার বাসায় রাখার বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিভ্রান্তিকর।

আমি মনে করি, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ের প্রকৃত প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং বাস্তব পরিস্থিতি যথাযথভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগকে পাশ কাটিয়ে একটি সাময়িক সংরক্ষণ-সংক্রান্ত বিষয়কে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণার সৃষ্টি হতে পারে।

প্রকাশিত সংবাদের এমন উপস্থাপনের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

ট্যাগ:

”প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ”

প্রকাশের সময়: ০১:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্য ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে “দিরাইয়ে হাসপাতালের ব্যাটারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বাড়িতে” শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দেবাশীষ রায়।

লিখিত প্রতিবাদে তিনি বলেন, প্রকাশিত সংবাদে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইপিএস সিস্টেমের পুরোনো ব্যাটারি আমার বাসায় রাখার বিষয়টিকে যেভাবে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেকটা ‘তিলকে তাল’ বানিয়ে প্রচার করায় বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। আমি এমন ভিত্তিহীন অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে আইপিএস সিস্টেমের ব্যাটারি অকেজো থাকায় সেটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। পূর্বের আইপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে মূলত চিকিৎসকসহ, ইনডোর ও আউটডোরে আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হত। আমি দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এর প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনাপূর্বক অনুরোধের মাধ্যমে একটি ১৬ কিলোওয়াটের লিথিয়াম ব্যাটারীর ব্যবস্থা করি যার মাধ্যমে হাসপাতালের নিচতলার ইনডোর, ইমার্জেন্সি ও আউটডোর এর একটি বড় অংশ আইপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহর আওতায় আনা সম্ভব হয়। যা লোডশেঢিং এ ভর্তি রোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

অন্যদিকে, পূর্বের আইপিএস সিস্টেমের ০৪(চার) টি ব্যাটারি দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে অনেকটাই অকেজো হয়ে পড়েছিল। সেগুলো দ্বিতীয় তলায় আইপিএস সিস্টেমে ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে মেরামত ও চার্জ করি, যা ভবিষ্যতে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। যেহেতু এইসব টিউব ব্যাটারীতে সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহৃত হয়, সেহেতু স্টোর রুমে রাখা আমার কাছে সমীচীন মনে হয়নি। এছাড়া, স্লোপ সিঁড়ির নিচে পুরাতন মালামালের সাথে রাখাটাও নিরাপদ নয়। কারণ ওই স্থানে বহিরাগত ও মাদকাসক্ত লোকের যাতায়াত প্রায় সময় পরিলক্ষিত হয়, যা প্রশাসনসহ সর্বজন বিধিত। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায়, হাসপাতালের কর্মকর্তা- কর্মচারীগণের সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে ব্যাটারীগুলো আমার জিম্মায় রাখি। যেখানে আমার কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, যদি কোন ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করা আমার উদ্দেশ্য হত তাহলে নিশ্চয় সবার সাথে আলোচনা করে দিন-দুপুরে ব্যাটারীগুলো আমি স্থানান্তর করতাম না।

এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে চাই, হাসপাতালের ওই ব্যাটারি গুলো কোনো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য আমার বাসায় নেওয়া হয়নি এবং হাসপাতালের সম্পদ আত্মসাৎ বা অপব্যবহারের কোনো মন-মানসিকতা নেই। বরং হাসপাতালের সম্পদ নিরাপদে সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে হাসপাতালের প্রয়োজনে ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়ছে।

একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমি ও হাসপাতালের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চালু করা হয়েছে এবং হাসপাতালের সেবার পরিধি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব ইতিবাচক উদ্যোগ প্রচারের পরিবর্তে ০৪ (চার) টি ব্যাটারি নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে আমার বাসায় রাখার বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিভ্রান্তিকর।

আমি মনে করি, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ের প্রকৃত প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং বাস্তব পরিস্থিতি যথাযথভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগকে পাশ কাটিয়ে একটি সাময়িক সংরক্ষণ-সংক্রান্ত বিষয়কে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণার সৃষ্টি হতে পারে।

প্রকাশিত সংবাদের এমন উপস্থাপনের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।