লন্ডন ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাগরে দুই মাস ধরে নিখোঁজ সিলেটের ৩৮ যুবক

তালির উদ্দেশে লিবিয়া থেকে সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সিলেট বিভাগের ৩৮ যুবকের কোনো খোঁজ মেলেনি। সংশ্লিষ্ট মানব পাচারচক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত হাসান মোল্লাসহ আটজনকে নোটিশ দিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ। ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি মামলা দায়েরের আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন বলেন, ‘মানব পাচারের এ ঘটনায় যারাই জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবারগুলোর উচিত দ্রুত মামলা করা।’

একই সঙ্গে হাসানের সহযোগী মোস্তাকিম, তফছির, মিজান ও সোহাগকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহের কার্যালয়ে হাজির করতে আজমিরীগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসও খুঁজে পাচ্ছে না কাউকে

লিবিয়ার কারাগার, হাসপাতালসহ সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নিয়েও নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি বলে জানিয়েছে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাসের প্রথম সচিব মো. রাসেল মিয়া বলেন, ‘তারা বিভিন্ন পথ হয়ে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছেন। সঠিক তথ্য না থাকায় খোঁজ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেছি, কারও সন্ধান মেলেনি। রেড ক্রিসেন্টও কোনো তথ্য দিতে পারেনি।’

তিনি আরও জানান, গত মার্চে নিখোঁজ হওয়া আরও ১৫ বাংলাদেশির কোনো হদিস আজও মেলেনি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তারাও সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন।

দালাল হাসান মোল্লার দাপট

পরিবারগুলোর অভিযোগ, ইতালিতে পাঠানোর আশায় তারা স্থানীয় দালাল হাসান মোল্লাকে ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। ৩০ সেপ্টেম্বর ত্রিপলি উপকূল থেকে চারটি নৌকা ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করে। এর মধ্যে হবিগঞ্জের ৩৮ জনসহ প্রায় ৯০ জনকে বহনকারী একটি নৌকা নিখোঁজ হয়। বাকি তিনটি নৌকা ইতালিতে পৌঁছায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাত্র ছয় মাসের মধ্যে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশিকে ইতালি পাঠিয়ে ‘দালাল’ হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেন হাসান মোল্লা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি যাত্রা থেকে তিনি কোটি টাকার মুনাফা গড়েছেন।

৩৮ তরুণের এ নিখোঁজের ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রটি আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। প্রিয়জনের মৃত্যুআশঙ্কায় পরিবারগুলো অসহায় হয়ে পড়েছে; ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে কেউই আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছেন না।

নিখোঁজদের সন্ধানে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও কাজ করছে।

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

যেদিন থেকে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা, রুটিন প্রকাশ

সাগরে দুই মাস ধরে নিখোঁজ সিলেটের ৩৮ যুবক

প্রকাশের সময়: ০৫:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

তালির উদ্দেশে লিবিয়া থেকে সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সিলেট বিভাগের ৩৮ যুবকের কোনো খোঁজ মেলেনি। সংশ্লিষ্ট মানব পাচারচক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত হাসান মোল্লাসহ আটজনকে নোটিশ দিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ। ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি মামলা দায়েরের আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন বলেন, ‘মানব পাচারের এ ঘটনায় যারাই জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবারগুলোর উচিত দ্রুত মামলা করা।’

একই সঙ্গে হাসানের সহযোগী মোস্তাকিম, তফছির, মিজান ও সোহাগকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহের কার্যালয়ে হাজির করতে আজমিরীগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসও খুঁজে পাচ্ছে না কাউকে

লিবিয়ার কারাগার, হাসপাতালসহ সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নিয়েও নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি বলে জানিয়েছে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাসের প্রথম সচিব মো. রাসেল মিয়া বলেন, ‘তারা বিভিন্ন পথ হয়ে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছেন। সঠিক তথ্য না থাকায় খোঁজ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেছি, কারও সন্ধান মেলেনি। রেড ক্রিসেন্টও কোনো তথ্য দিতে পারেনি।’

তিনি আরও জানান, গত মার্চে নিখোঁজ হওয়া আরও ১৫ বাংলাদেশির কোনো হদিস আজও মেলেনি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তারাও সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন।

দালাল হাসান মোল্লার দাপট

পরিবারগুলোর অভিযোগ, ইতালিতে পাঠানোর আশায় তারা স্থানীয় দালাল হাসান মোল্লাকে ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। ৩০ সেপ্টেম্বর ত্রিপলি উপকূল থেকে চারটি নৌকা ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করে। এর মধ্যে হবিগঞ্জের ৩৮ জনসহ প্রায় ৯০ জনকে বহনকারী একটি নৌকা নিখোঁজ হয়। বাকি তিনটি নৌকা ইতালিতে পৌঁছায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাত্র ছয় মাসের মধ্যে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশিকে ইতালি পাঠিয়ে ‘দালাল’ হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেন হাসান মোল্লা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি যাত্রা থেকে তিনি কোটি টাকার মুনাফা গড়েছেন।

৩৮ তরুণের এ নিখোঁজের ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রটি আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। প্রিয়জনের মৃত্যুআশঙ্কায় পরিবারগুলো অসহায় হয়ে পড়েছে; ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে কেউই আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছেন না।

নিখোঁজদের সন্ধানে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও কাজ করছে।