সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত দশটি গ্রাম অনেকটা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১০টি গবাদিপশু মারা গেছে। এতে বসতঘর ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া প্রবল ঝড়ে উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের বলনপুর, কুড়ি, গ্রাম জগন্নাথপুর, নয়াগাঁও, সমীপুর, রামজীবনপুর এবং চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া ও শ্যামারচরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঝড় চলাকালে পেরুয়া গ্রামের লিটন মিয়া (৩০) নামের এক কৃষক হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের সময় অনেক কৃষক হাওরে পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত ছিলেন। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতের কারণে তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারেননি।
ঝড়ের তাণ্ডবে বহু বসতঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে, গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং মাঠের পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি অনেক গবাদিপশুও আহত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ কালো মেঘ জমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঝড় শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘরের টিন উড়ে যায় এবং মাঠের ধান পড়ে যায়। বর্তমানে ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তারা আশঙ্কা করছেন, পানি চলে এলে অবশিষ্ট ধানও নষ্ট হয়ে যাবে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঝড়ের সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত হচ্ছিল। এ সময় হাওরে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রাঘাতে লিটন মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 


















