শাল্লায় জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

সুনামগঞ্জের শাল্লায় মানুষের জীবিকার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বোরো ফসল৷ এই মৌসুমে ধান মহোৎসব চলছে হাওরাঞ্চলে। জমি থেকে ধান গোলায় তুলতে সব বয়সী পুরুষ ও নারী মিলে ব্যস্ততায় দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু কৃষক-কৃষাণীর মনে নেই কোনো আনন্দ।

বিভিন্ন দুর্যোগ ও অপরিকল্পিতভাবে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে হাওরে জমানো পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় হাওরের নিচু জমি তলিয়ে গেছে। আবার শিলাবৃষ্টির কারণে কিছু হাওরে জমির ধান নষ্ট হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় মেশিন ও শ্রমিক দিয়ে ধান কর্তন, মাড়াই করতে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে।

হবিবপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবলু রায় জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক হাওরে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও কোথাও জমি তলিয়েও গেছে। ফলে হারভেস্টারসহ কোনো ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিক সংকটে থাকায় কৃষকরা এখন ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

আনন্দপুর গ্রামের কৃষক প্রজেশ তালুকদার জানান, জলাবদ্ধতায় প্রায় ৬ কেয়ার পাকা জমি তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতেই ফসল তলিয়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় ধানের ছড়া পানির নিচে পচনও সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে কৃষকদের দুর্যোগ মোকাবিলার সময় যেতে না যেতেই আবার পাউবোর মাইকিংয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে কৃষকদের মনে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ঘোষণা করা হয়- নদীতে পানি বৃদ্ধি ও আগাম বন্যার আশঙ্কা থাকায় হাওরে ৮০ শতাংশ ধান পাকা হলেই কর্তনের জন্য এলাকায় মাইকিং করে কৃষকদের জানানো হয়েছে। এ নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে অপরিপক্ক ধান অনেকেই কাটছেন।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড শাল্লা শাখার সেকশন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, আমাদের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছি এবং কৃষকদের ফসল গোলায় উত্তোলন না হওয়া পর্যন্ত হাওর রক্ষা বাঁধে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে থাকব।

অন্যদিকে কৃষকদের মন্তব্য, যাদের নিজের জমি তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে কিন্তু যারা অন্যের জমি ইজারা নিয়ে ফসল করছে তাদের কোনো লাভ হবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি কৃত্রিম দুর্যোগের কারণে সংকট আরও দেখা দিয়েছে। যেমন অপরিকল্পিত বাঁধের জন্য হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং জ্বালানি তেলের অভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি চালানো ব্যাহত হচ্ছে। এরমধ্যে ধানেরও মূল্য কম। তবে সরকার যদি ধানের মূল্য বাড়িয়ে দিত তাহলে মোটামুটি কৃষকের ঘাটতি একটু হলেও পূরণ হতো।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর শাল্লায় ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এর থেকে ধান উৎপাদন হবে প্রায় ১,৪৩,৩৬৮ টন ও চাল উৎপাদন প্রায় ৯৫ হাজার ৫৭৯ টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫১৬.১২ কোটি টাকা। তবে জলাবদ্ধতায় প্রায় ৪৩৪০ হেক্টর জমি, শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে আক্রান্ত প্রায় ৭৭১ হেক্টর জমি এবং শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্থ জমি প্রায় ১৬৭ হেক্টর। কিন্তু ধানের ফলন ভালো হলেও দুর্যোগের কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা শুভজিত রায় বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে থেকে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করছি। কিছু জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে মেশিন দিয়ে ধান কর্তন সম্ভব না, বিধায় আগাম বন্যা প্রতিরোধে শ্রমিক দিয়ে ধান কর্তনের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক সংগ্রহ হচ্ছে। জ্বালানি সংকটে ধান কাটার ও মাড়াই মেশিন যেন বন্ধ না থাকে সে ব্যাপারে আমরা জ্বালানির ব্যবস্থা রেখেছি। আশা করি মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শাল্লার সম্পূর্ণ হাওরে ধান কর্তন শেষ হবে। এবং যে সমস্ত ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেগুলো তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দেওয়া হয়েছে।

ইয়ারাবাদ গ্রামের কৃষক আব্দুস শহীদ বলেন, আমি ৩০ কেয়ার জমিতে আবাদ করেছি। শিলাবৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে হাওরে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কিছু ধানক্ষেত। ভালো বছরে যে জমি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় কেটে মাঠে আনা যেত, একই জমি এবার চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় কেটে এবং অতিরিক্ত খরচে নৌকা ও ট্রলিতে মাঠে আনতে হচ্ছে। এরপরে শ্রমিক ঠিক মতো পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা, ডিজেল ও প্রট্রল সমস্যার কারণে মেশিন দিয়ে সব জমি কাটা যাচ্ছে না। আবার জমি কেটে মেশিনে মাড়াই করতে চার্জ নিচ্ছে বেশি, তবে কিছুটা সিন্ডিকেট তারা করে। অন্য বছর প্রতি মণ ধান বিক্রি হয়েছে ৮শ- ৯শ টাকা। এবার ৬শ-৭শ টাকার বেশি নয়। নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, উপজেলা প্রশাসন থেকে মাইকিংয়ের কথা শুনে ভয়ে অনেকে আধা পাকা ধান কাটছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাওর রক্ষা বাঁধ (পিআইসি) কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ধান কাটার এখন মহোৎসব চলছে। কৃষক, সাধারণ মানুষ সবাই সচেষ্ট আছেন। আমাদের উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কৃষকদের পাশে রয়েছি। জ্বালানি সংকটে যেন কোনো মেশিন বন্ধ না থাকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া আছে। হাওর রক্ষা বাঁধ কমিটির সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলা হয়েছে নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে যদি কোথাও বাঁধের অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুত আছি।

ট্যাগ:

শাল্লায় জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশের সময়: ০২:৩৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জের শাল্লায় মানুষের জীবিকার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বোরো ফসল৷ এই মৌসুমে ধান মহোৎসব চলছে হাওরাঞ্চলে। জমি থেকে ধান গোলায় তুলতে সব বয়সী পুরুষ ও নারী মিলে ব্যস্ততায় দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু কৃষক-কৃষাণীর মনে নেই কোনো আনন্দ।

বিভিন্ন দুর্যোগ ও অপরিকল্পিতভাবে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে হাওরে জমানো পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় হাওরের নিচু জমি তলিয়ে গেছে। আবার শিলাবৃষ্টির কারণে কিছু হাওরে জমির ধান নষ্ট হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় মেশিন ও শ্রমিক দিয়ে ধান কর্তন, মাড়াই করতে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে।

হবিবপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবলু রায় জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক হাওরে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও কোথাও জমি তলিয়েও গেছে। ফলে হারভেস্টারসহ কোনো ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিক সংকটে থাকায় কৃষকরা এখন ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

আনন্দপুর গ্রামের কৃষক প্রজেশ তালুকদার জানান, জলাবদ্ধতায় প্রায় ৬ কেয়ার পাকা জমি তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতেই ফসল তলিয়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় ধানের ছড়া পানির নিচে পচনও সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে কৃষকদের দুর্যোগ মোকাবিলার সময় যেতে না যেতেই আবার পাউবোর মাইকিংয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে কৃষকদের মনে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ঘোষণা করা হয়- নদীতে পানি বৃদ্ধি ও আগাম বন্যার আশঙ্কা থাকায় হাওরে ৮০ শতাংশ ধান পাকা হলেই কর্তনের জন্য এলাকায় মাইকিং করে কৃষকদের জানানো হয়েছে। এ নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে অপরিপক্ক ধান অনেকেই কাটছেন।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড শাল্লা শাখার সেকশন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, আমাদের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছি এবং কৃষকদের ফসল গোলায় উত্তোলন না হওয়া পর্যন্ত হাওর রক্ষা বাঁধে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে থাকব।

অন্যদিকে কৃষকদের মন্তব্য, যাদের নিজের জমি তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে কিন্তু যারা অন্যের জমি ইজারা নিয়ে ফসল করছে তাদের কোনো লাভ হবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি কৃত্রিম দুর্যোগের কারণে সংকট আরও দেখা দিয়েছে। যেমন অপরিকল্পিত বাঁধের জন্য হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং জ্বালানি তেলের অভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি চালানো ব্যাহত হচ্ছে। এরমধ্যে ধানেরও মূল্য কম। তবে সরকার যদি ধানের মূল্য বাড়িয়ে দিত তাহলে মোটামুটি কৃষকের ঘাটতি একটু হলেও পূরণ হতো।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর শাল্লায় ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এর থেকে ধান উৎপাদন হবে প্রায় ১,৪৩,৩৬৮ টন ও চাল উৎপাদন প্রায় ৯৫ হাজার ৫৭৯ টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫১৬.১২ কোটি টাকা। তবে জলাবদ্ধতায় প্রায় ৪৩৪০ হেক্টর জমি, শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে আক্রান্ত প্রায় ৭৭১ হেক্টর জমি এবং শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্থ জমি প্রায় ১৬৭ হেক্টর। কিন্তু ধানের ফলন ভালো হলেও দুর্যোগের কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা শুভজিত রায় বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে থেকে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করছি। কিছু জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে মেশিন দিয়ে ধান কর্তন সম্ভব না, বিধায় আগাম বন্যা প্রতিরোধে শ্রমিক দিয়ে ধান কর্তনের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক সংগ্রহ হচ্ছে। জ্বালানি সংকটে ধান কাটার ও মাড়াই মেশিন যেন বন্ধ না থাকে সে ব্যাপারে আমরা জ্বালানির ব্যবস্থা রেখেছি। আশা করি মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শাল্লার সম্পূর্ণ হাওরে ধান কর্তন শেষ হবে। এবং যে সমস্ত ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেগুলো তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দেওয়া হয়েছে।

ইয়ারাবাদ গ্রামের কৃষক আব্দুস শহীদ বলেন, আমি ৩০ কেয়ার জমিতে আবাদ করেছি। শিলাবৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে হাওরে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কিছু ধানক্ষেত। ভালো বছরে যে জমি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় কেটে মাঠে আনা যেত, একই জমি এবার চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় কেটে এবং অতিরিক্ত খরচে নৌকা ও ট্রলিতে মাঠে আনতে হচ্ছে। এরপরে শ্রমিক ঠিক মতো পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা, ডিজেল ও প্রট্রল সমস্যার কারণে মেশিন দিয়ে সব জমি কাটা যাচ্ছে না। আবার জমি কেটে মেশিনে মাড়াই করতে চার্জ নিচ্ছে বেশি, তবে কিছুটা সিন্ডিকেট তারা করে। অন্য বছর প্রতি মণ ধান বিক্রি হয়েছে ৮শ- ৯শ টাকা। এবার ৬শ-৭শ টাকার বেশি নয়। নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, উপজেলা প্রশাসন থেকে মাইকিংয়ের কথা শুনে ভয়ে অনেকে আধা পাকা ধান কাটছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাওর রক্ষা বাঁধ (পিআইসি) কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ধান কাটার এখন মহোৎসব চলছে। কৃষক, সাধারণ মানুষ সবাই সচেষ্ট আছেন। আমাদের উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কৃষকদের পাশে রয়েছি। জ্বালানি সংকটে যেন কোনো মেশিন বন্ধ না থাকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া আছে। হাওর রক্ষা বাঁধ কমিটির সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলা হয়েছে নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে যদি কোথাও বাঁধের অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুত আছি।