দিরাইয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর এখন আর নতুন নয়। বরং নতুন হলো একই ধরনের অনিয়মে একই পরিচিত ফার্মেসির নাম বারবার সামনে আসা। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ বা বিক্রির অভিযোগে জরিমানা, কিছুদিন নীরবতা, তারপর আবারও একই অভিযোগ। এই চক্র কবে ভাঙবে?
ওষুধ মানুষের জীবন বাঁচায়। সেই ওষুধ যদি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়, তবে তা জীবন রক্ষার বদলে জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। অথচ কিছু ব্যবসায়ী যেন বিষয়টিকে তুচ্ছ করে দেখছেন। মনে হচ্ছে, জরিমানা তাদের কাছে আইনের শাস্তি নয়, বরং ব্যবসার একটি অতিরিক্ত খরচ মাত্র।
প্রশ্ন উঠছে, বারবার অভিযানে ধরা পড়া এবং জরিমানা হওয়ার পরও যদি অনিয়ম বন্ধ না হয়, তাহলে শুধু অর্থদণ্ড দিয়ে কী অর্জিত হচ্ছে? জনগণের জীবন কি কয়েক হাজার টাকার জরিমানার চেয়ে কম মূল্যবান? যদি একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে আইন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় কি আসেনি?
জনগণ জানতে চায় কেন একই ধরনের অভিযোগ বারবার? কোথায় ওষুধ প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি? কেন ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ বাজারে থাকার সুযোগ তৈরি হয়? শুধু অভিযান চালিয়ে জরিমানার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রকৃত দায়িত্ব হলো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা।
সৎ ও দায়িত্বশীল ফার্মেসিগুলোর জন্যও এটি অন্যায্য। কারণ কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পুরো ওষুধ ব্যবসার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করেন, তারাও প্রশ্নবিদ্ধ হন।
এখন সময় এসেছে ‘জরিমানা করলাম, দায়িত্ব শেষ’ এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার। একই অপরাধে বারবার অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা, নিবিড় নজরদারি এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স পর্যালোচনার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ফার্মেসি মালিকদেরও বুঝতে হবে ওষুধের ব্যবসা শুধু লাভের নয়, এটি মানুষের জীবন ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত একটি নৈতিক দায়িত্ব।
দিরাইয়ের মানুষ নিরাপদ ও মানসম্মত ওষুধ পাওয়ার অধিকার রাখে। সেই অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কঠোরতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ব্যবসায়ীদের বিবেকও জাগ্রত হওয়া জরুরি। অন্যথায়, জরিমানার সংখ্যা বাড়বে, কিন্তু মানুষের আস্থা কমতেই থাকবে।
মুজাহিদ সর্দার তালহা 


















