লন্ডন ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদ সদস্যদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময়: উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও মাদকমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়

নগণের প্রত্যাশা পূরণ ও জেলার সামগ্রিক উন্নয়নকে সামনে রেখে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সুনামগঞ্জ-১, ৩, ৪ ও ৫ আসনের সংসদ সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সভায় বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।

উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন পিপিএমসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাত শক্তিশালী করা এবং মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত জেলা গঠনে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, জেলার মধ্যে তার আসনটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। নির্বাচনী প্রচারণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও মৌলিক অবকাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। এসব অঞ্চলের উন্নয়নে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের সেবক। ‘স্যার’ সম্বোধন পাওয়ার জন্য নয়, জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে প্রশাসনিক সহায়তা অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানের সঙ্গে ‘সবার আগে সুনামগঞ্জ’ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল বলেন, হাওরাঞ্চল সুনামগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের পাশে থেকে এ বিষয়ে কাজ করবেন বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, দিরাই উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে বিস্তৃত হবে।

সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন জেলার যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক উপজেলা এখনও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত। উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, এক্স-রে মেশিন ও অ্যাম্বুলেন্সের অভাব রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে সুনামগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। গত বছর জেলায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে এবং বিভিন্ন মহাল থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবুও জেলার বিভিন্ন দপ্তরে পদ শূন্যতা রয়েছে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে সুনামগঞ্জ তার ন্যায্য হিস্যা পায় সে বিষয়ে সংসদ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আয়েশা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে জেলার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা

ট্যাগ:

সংসদ সদস্যদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময়: উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও মাদকমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়

সংসদ সদস্যদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময়: উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও মাদকমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়

প্রকাশের সময়: ১০:৫০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নগণের প্রত্যাশা পূরণ ও জেলার সামগ্রিক উন্নয়নকে সামনে রেখে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সুনামগঞ্জ-১, ৩, ৪ ও ৫ আসনের সংসদ সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সভায় বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।

উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন পিপিএমসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাত শক্তিশালী করা এবং মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত জেলা গঠনে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, জেলার মধ্যে তার আসনটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। নির্বাচনী প্রচারণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও মৌলিক অবকাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। এসব অঞ্চলের উন্নয়নে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের সেবক। ‘স্যার’ সম্বোধন পাওয়ার জন্য নয়, জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে প্রশাসনিক সহায়তা অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানের সঙ্গে ‘সবার আগে সুনামগঞ্জ’ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল বলেন, হাওরাঞ্চল সুনামগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের পাশে থেকে এ বিষয়ে কাজ করবেন বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, দিরাই উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে বিস্তৃত হবে।

সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন জেলার যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক উপজেলা এখনও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত। উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, এক্স-রে মেশিন ও অ্যাম্বুলেন্সের অভাব রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে সুনামগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। গত বছর জেলায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে এবং বিভিন্ন মহাল থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবুও জেলার বিভিন্ন দপ্তরে পদ শূন্যতা রয়েছে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে সুনামগঞ্জ তার ন্যায্য হিস্যা পায় সে বিষয়ে সংসদ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আয়েশা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে জেলার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা