সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সড়ক, রেল ও আকাশপথ নিয়ে সুখবর দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

দীর্ঘদিন ধরে নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দুর্ভোগে থাকা সিলেটবাসীর জন্য সুখবর দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, সিলেটের সড়ক, রেল ও আকাশপথ উন্নয়নে সরকার বেশ কয়েকটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে।

রোববার(২৪মে) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, আখাউড়া-সিলেট রেললাইন ডাবল গেজ করার বিষয়ে মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই রুটে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে এবং সিলেট থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র তিন ঘণ্টা। এতে সড়কপথের ওপর চাপও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, আখাউড়া-সিলেট রেললাইন ডাবল গেজ প্রকল্পের পূর্ণ অনুমোদনের পর সিলেট-চট্টগ্রাম রেললাইন উন্নয়নের কাজও শুরু করা হবে।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হলেও ঈদুল আজহার পর পুরোদমে কাজ শুরু হবে। একইসঙ্গে সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজও এগিয়ে চলছে।

আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আশার কথা শোনান তিনি। মন্ত্রী জানান, সিলেট-চট্টগ্রাম ও সিলেট-কক্সবাজার রুটে বিমান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ঈদুল আজহার পর এ বিষয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার ১ হাজার ১৫৮ জন কর্মীর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের প্রায় ৫৮ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই সিটি করপোরেশনের প্রাণ। তাদের অবদানেই সিলেট শহর বাসযোগ্য থাকে। তাই সরকার প্রতি ঈদেই তাদের জন্য বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা করছে।”

সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ৮৩১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য উপহার নিশ্চিত করা হয়। পরে আরও ৩৩১ জন কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করতে সিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা যোগ করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সংকট নিয়েও কথা বলেন তিনি। নির্বাচনের আগে তাদের বাসস্থানের অবস্থা ঘুরে দেখেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি ছোট কক্ষে ৮ থেকে ১০ জন পর্যন্ত বসবাস করেন, যা অস্বাস্থ্যকর। এ অবস্থার পরিবর্তনে নতুন আবাসন প্রকল্প নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করে সিলেটকে আবার পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করা হবে।”

এছাড়া কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চামড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎস। তিনি মাদ্রাসার শিক্ষক, মুহতামিম ও কোরবানিদাতাদের উদ্দেশে বলেন, পশু জবাইয়ের চার ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে চামড়া নষ্ট না হয়।

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সড়ক, রেল ও আকাশপথ নিয়ে সুখবর দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময়: ০৪:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দুর্ভোগে থাকা সিলেটবাসীর জন্য সুখবর দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, সিলেটের সড়ক, রেল ও আকাশপথ উন্নয়নে সরকার বেশ কয়েকটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে।

রোববার(২৪মে) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, আখাউড়া-সিলেট রেললাইন ডাবল গেজ করার বিষয়ে মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই রুটে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে এবং সিলেট থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র তিন ঘণ্টা। এতে সড়কপথের ওপর চাপও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, আখাউড়া-সিলেট রেললাইন ডাবল গেজ প্রকল্পের পূর্ণ অনুমোদনের পর সিলেট-চট্টগ্রাম রেললাইন উন্নয়নের কাজও শুরু করা হবে।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হলেও ঈদুল আজহার পর পুরোদমে কাজ শুরু হবে। একইসঙ্গে সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজও এগিয়ে চলছে।

আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আশার কথা শোনান তিনি। মন্ত্রী জানান, সিলেট-চট্টগ্রাম ও সিলেট-কক্সবাজার রুটে বিমান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ঈদুল আজহার পর এ বিষয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার ১ হাজার ১৫৮ জন কর্মীর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের প্রায় ৫৮ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই সিটি করপোরেশনের প্রাণ। তাদের অবদানেই সিলেট শহর বাসযোগ্য থাকে। তাই সরকার প্রতি ঈদেই তাদের জন্য বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা করছে।”

সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ৮৩১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য উপহার নিশ্চিত করা হয়। পরে আরও ৩৩১ জন কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করতে সিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা যোগ করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সংকট নিয়েও কথা বলেন তিনি। নির্বাচনের আগে তাদের বাসস্থানের অবস্থা ঘুরে দেখেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি ছোট কক্ষে ৮ থেকে ১০ জন পর্যন্ত বসবাস করেন, যা অস্বাস্থ্যকর। এ অবস্থার পরিবর্তনে নতুন আবাসন প্রকল্প নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করে সিলেটকে আবার পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করা হবে।”

এছাড়া কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চামড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎস। তিনি মাদ্রাসার শিক্ষক, মুহতামিম ও কোরবানিদাতাদের উদ্দেশে বলেন, পশু জবাইয়ের চার ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে চামড়া নষ্ট না হয়।