সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের সম্ভাব্য তালিকায় স্থান পেয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক চিঠিতে দেশের বিভিন্ন জেলার ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক শাখা থেকে ৪ নভেম্বর জারি করা চিঠিতে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত নির্বাচিত স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে।
দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় উপজেলার অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলে মাধ্যমিক শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। জাতীয়করণের সম্ভাব্য তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
অভিভাবক মিঠুন সরকার বলেন, দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি এ অঞ্চলের বহু প্রজন্মের শিক্ষা ও ঐতিহ্যের ধারক। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে সাধারণ ও নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে দুর্গম হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবে। আমরা মনে করি, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দিরাইসহ বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং আগামী প্রজন্মের শিক্ষার অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদ হাসান অলেক বলেন, শতবর্ষী দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম জাতীয়করণের সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও আশাবাদী। এ উদ্যোগের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন চৌধুরী, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি, জাতীয়করণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলে এটি শুধু দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য নয়, পুরো দিরাই উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
দিরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি সামছুল ইসলাম সরদার খেজুর বলেন, জাতীয়করণের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টির পথ সুগম হবে।
মুজাহিদ সর্দার তালহা 


















