জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ, শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছেন দিরাই সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানটি। অথচ তাঁদের সম্মাননা দেওয়ার জন্য আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষককে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। শিক্ষকদের স্বীকৃতি প্রদানের আয়োজনে এমন ঘটনা আয়োজকদের দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রতিযোগিতায় কলেজ পর্যায়ে দিরাই উপজেলার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ (প্রতিষ্ঠান প্রধান) নির্বাচিত হয়েছেন দিরাই সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম তালুকদার। একই প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে দিরাই সরকারি ডিগ্রি কলেজ। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন ওই কলেজের সহকারী অধ্যাপক সন্দীপন দাস।
গতকাল সোমবার উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ ও শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও ওই দুই শিক্ষক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি। ফলে তাঁরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।
এ বিষয়ে দিরাই সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম তালুকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছি, আমার কলেজ শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়েছে। অথচ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বহীনতা খুবই দুঃখজনক।
কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হওয়া সন্দীপন দাস বলেন, আমি শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, আমাদের কলেজ শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আমাদের অধ্যক্ষও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ আমরা কেউই অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাইনি। কর্তৃপক্ষ এ দায় এড়াতে পারে না।
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবুল কালাম আজাদ বলেন, শিক্ষকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে সেই গ্রুপে আমি নিজে দাওয়াত করেছি তারপরও অপ্রত্যাশিত ভুলের জন্য করে দুঃখপ্রকাশ করছি।
এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতে, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে যাঁরা মেধা, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, তাঁদেরই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানো অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষকদের সম্মানিত করার আয়োজনে তাঁদের উপেক্ষা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনা আয়োজকদের দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাবকেই সামনে নিয়ে আসে।
মুজাহিদ সর্দার তালহা 











