সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ নিয়ে ছাত্রদলের অভিযোগ ও আন্দোলনের পর চারজনের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া চার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তাদের নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাতিল হওয়া চারজন হলেন, দিরাই পৌরসভার শংকর বৈষ্ণব, সরমঙ্গল ইউনিয়নের মিলি রায়, কুলঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দ সাবের হোসেন বিজয় এবং জগদল ইউনিয়নের আবু ওয়াক্কাছ খান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বাতিল প্রার্থীদের স্থলে রিজার্ভ প্রার্থী বা অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে।
এর আগে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির মাঠপর্যায়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম ও দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামে দিরাই উপজেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রদল। গত ১৮ আগস্ট দিরাই উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অভিযোগের সুরাহা না হলে আন্দোলন আরও জোরদারের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে চারজন তথ্য সংগ্রহকারীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।
তবে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও নিয়োগ বাতিলের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের স্থলে রিজার্ভ বা অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে প্রার্থী নিয়োগ দেওয়া হবে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সব ধরনের বিতর্ক এড়িয়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 


















