জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁতারে জাতীয় পর্যায়ে চতুর্থ স্থান অর্জন এবং দাবায় বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই শিক্ষার্থী আমেনা বেগম ও গালিবা করিম মাহাকে পুরস্কৃত করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সনজীব সরকার শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মাতারগাঁও মোহাম্মদী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
আমেনা বেগম মাতারগাঁও মোহাম্মদী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁতারে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাফল্য পেরিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়ে জাতীয় পর্যায়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করে সে। অন্যদিকে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গালিবা করিম মাহা দাবা প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, হাওরপাড়ের একটি গ্রামের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেও আমেনা বেগম জাতীয় পর্যায়ে সাঁতারে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। তার এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। পড়াশোনায় মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও সে অত্যন্ত পারদর্শী। আমেনা আমাদের বিদ্যালয়ের গর্ব, হাওরাঞ্চলের মানুষের অহংকার। অন্যদিকে গালিবা করিম মাহা দাবায় বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনন্দিত ও উৎসাহিত। এ ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ইউএনও সনজীব সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের এ ধরনের অর্জন শুধু তাদের নিজেদের বা বিদ্যালয়ের সাফল্য নয়, এটি পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল থেকেও প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করতে পারে, আমেনা ও গালিবা তার উদাহরণ। তাদের এই কৃতিত্ব অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের সম্ভাবনা বিকাশে যথাসাধ্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। ভবিষ্যতেও তারা নিজেদের প্রতিভা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে দিরাইয়ের সুনাম বয়ে আনবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 














