জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের (পিএফজি) সদস্যদের স্বীকৃতি প্রদান এবং প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হলেও শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা নিরসন এবং সমাজে পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পিএফজির কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে ছন্দপতন ঘটতে পারে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা পরিষদ হলরুমে দিরাই পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) ও ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের (ওয়াইপিএজি) ত্রৈমাসিক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সভার সহযোগিতায় ছিল দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্প।
দিরাই পিএফজির পিস অ্যাম্বাসেডর আব্দুর রশিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং পিএফজির সমন্বয়কারী সামছুল ইসলাম সরদার খেজুরের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের কুদরত পাশা।
স্বাগত বক্তব্যে কুদরত পাশা জানান, আগামী জানুয়ারি ২০২৭ সালে প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তাই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পিএফজির কার্যক্রম কীভাবে সচল রাখা যায়, সে বিষয়ে এখন থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সব পিএফজির সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে তাঁদের কাজের স্বীকৃতি ও সনদপত্র প্রদানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবেন এবং ভবিষ্যতেও এ কাজে উৎসাহিত হবেন।
সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিরাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সন্দীপন মজুমদার, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হিরন্ময় রায় এবং দিরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিরাই পিএফজির পিস অ্যাম্বাসেডর গোলাপ মিয়া।
সন্দীপন মজুমদার বলেন, এমআইপিএস প্রকল্পের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পিএফজি সদস্যরা অনেক কিছু শিখেছেন। এখন এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার দায়িত্ব তাঁদেরই নিতে হবে। প্রকল্পের বিভিন্ন সভায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দিরাইয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সদস্যরা তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
হিরন্ময় রায় বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব সাধারণ মানুষকেও বহন করতে হচ্ছে। ইরান, ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি নানা কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চাপও মানুষকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় রাজনৈতিক মতাদর্শ ও দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে উদ্যোগটিতে ছন্দপতন ঘটতে পারে। তাই এলাকার মানুষের স্বার্থে পিএফজি সদস্যদের কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তিনি পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সভায় বক্তারা বলেন, পিএফজি একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী, সহনশীল ও মানবিক সমাজ গঠনে কাজ করছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, সহিংসতা নিরসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করা, ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ এবং সম্মিলিত উদ্যোগে সামাজিক সমস্যা সমাধানে এ সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, এমআইপিএস প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হলেও শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার কাজ থেমে থাকা উচিত নয়। পিএফজি ও ওয়াইপিএজির সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। পাশাপাশি জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার পিএফজি সদস্যদের একত্রিত করে তাঁদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, কাজের স্বীকৃতি প্রদান ও সনদপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে তা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে অনুপ্রেরণা জোগাবে। এতে সদস্যরা শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার কারিগর হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারবেন।
ত্রৈমাসিক সভায় আরও বক্তব্য দেন পিএফজি সদস্য শাহ আলম, আলী আহমদ খান, জুয়েল আহমদ, মজিদা খাতুন, শাম্মি আক্তার, সুলতানা রাজিয়া, লিলি বেগম, রুপিয়া বেগম, হাফসা বেগম ও পারভীন বেগম। এ ছাড়া ওয়েভ সদস্য ফরিদা আক্তার, অপি সরকার ও রাহেলা বেগম এবং ওয়াইপিএজি সদস্য লিপিকা বিশ্বাস, রিয়াজুল ইসলামসহ পিএফজি ও ওয়াইপিএজির অন্য সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
কালনী ভিউ ডেস্কঃ 
















