সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাসের হারে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৬৪ শতাংশের বেশি, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে তা ১০ শতাংশের নিচে। এমনকি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে এমন তারতম্য উপজেলার শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য নিয়ে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ১ হাজার ৯০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯১৯ জন। সম্মিলিত পাসের হার ৪৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জগদল কলেজে পাসের হার সর্বোচ্চ ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। হাজী মাহমুদ মিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার পাসের হারও ৬৪ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে আলহাজ্ব আব্দুল মতলিব স্কুল অ্যান্ড কলেজে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি।
দিরাই সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে ৯৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৬৪ জন। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি তালিকার বৃহত্তম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বিবিয়ানা মডেল ডিগ্রি কলেজ থেকে ৪৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৮৬ জন। পাসের হার ৬১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। জগদল কলেজে ৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪২ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
হাজী মাহমুদ মিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৪৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৯ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমিতে ৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৫ জন। পাসের হার ৫০ শতাংশ। সৈয়দ মুনাওয়ার আলী আটগ্রাম কলেজে ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৮ জন। এ কলেজের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজে ১৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৯ জন। পাসের হার ২৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। হাতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৯ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
রজনীগঞ্জ স্কুলে ৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫ জন। পাসের হার ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। চরনারচর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২ জন। এ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
অন্যদিকে আলহাজ্ব আব্দুল মতলিব স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৫ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জগদল কলেজ, হাজী মাহমুদ মিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা ও বিবিয়ানা মডেল ডিগ্রি কলেজে পাসের হার ৬০ শতাংশের বেশি। বিপরীতে রজনীগঞ্জ স্কুল, চরনারচর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং হাতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে। আলহাজ্ব আব্দুল মতলিব স্কুল অ্যান্ড কলেজে কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল বিশেষভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে এমন তারতম্যের কারণ নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, শিক্ষকদের কার্যক্রম এবং সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ পর্যালোচনা করার দাবি স্থানীয়দের।
মুজাহিদ সর্দার তালহা 
















