স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের সংস্কার আনছে ইসি

বার সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রচারণার পোস্টারের ব্যবহার থাকছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে এসব নির্বাচনে প্রযুক্তিনির্ভর ভোটদান পদ্ধতি ইভিএম’র ব্যবহারও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এবং কেবল ‘সিরিয়াস’ প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।

নির্দলীয় স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। নির্বাচন আয়োজনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজও পুরোদমে চলছে। আজকে কমিশন একটি বিশেষ সভা ডেকেছে, যেখানে একটি সমন্বিত আচরণবিধিমালা তৈরির বিষয়ে খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনী প্রস্তুতিকে ডিজিটাল ও নিখুঁত করতে ‘ইলেকশন সিডিউল ম্যানেজমেন্ট মডিউল (ইএমএস)’ নামে একটি সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সব কটি প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুর রহমানেল মাছুউদ গণমাধ্যমকে জানান, আমরা আগামীকাল একটি মিটিং ডেকেছি। আইনের কী কী পরিবর্তন লাগবে, যে আইন করা হয়েছে সে অনুযায়ী করেসপন্ডিং বিধি বা নির্বাচন বিধিমালা এবং আচরণ বিধিতে কী কী পরিবর্তন আনা দরকার তা নিয়ে সভায় আলোচনা হবে। সেখানে একটা খসড়া করা হবে। সেটা যাচাই-বাছাই করে কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু পরিবর্তন আসবে। যেমন, পোস্টার থাকবে না। অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিষয়টি থাকবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ন্যূনতম সমর্থনের নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

সবগুলো প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অভিন্ন আচরণবিধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এই কমিশনার বলেন, আমি মনে করি সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি একক আচরণবিধি থাকা উচিত, এবং সে বিষয়ে আমি একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করব।

প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যালট পেপারের আকার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রার্থীর সংখ্যা যদি বেশি হয়ে যায়, তাহলে ব্যালট পেপার বড় হয়ে যাবে। তখন ভোটার কাকে ভোট দেবেন, কনফিউজড হবেন। আমরা যেটা করেছি এখন নির্বাচনী জামানতের সীমা একটু বাড়িয়ে দেবো। যারা জেনুইন প্রার্থী তারাই যেন নির্বাচনে আসুক এটা আমরা চাই। যে কেউ দুই থেকে ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রার্থী হবেন, আমার ব্যালটের খরচ বেড়ে যাবে, মানুষের ভোট দিতে সময়ক্ষেপণ হবে, এটা আর হবে না।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকারের সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ, গেজেট প্রকাশের তারিখ, শপথ গ্রহণের তারিখ ও প্রথম সভার তারিখসহ ওয়ার্ড বিন্যাস, ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস ও মামলাসহ নানা বিষয়ে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ করা হচ্ছে। মাঠ কর্মকর্তাদের ১৫ মের মধ্যে সার্বিক তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আইন অনুযায়ী অনধিক ৫ লাখ ভোটার আছে এমন নির্বাচনী এলাকার জন্য মেয়র পদপ্রার্থীর জামানত ২০ হাজার। একইভাবে ভোটার ৫ লাখ ১ থেকে ১০ লাখ হলে জামানত ৩০ হাজার, ভোটার ১০ লাখ ১ থেকে ২০ লাখ হলে ৫০ হাজার এবং ভোটার ২০ লাখের বেশি হলে ১ লাখ টাকা জামানত নির্ধারিত রয়েছে। আর সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটার অনধিক ১৫ হাজার হলে ১০ হাজার টাকা; ১৫ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার হলে ২০ হাজার টাকা; ৩০ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজার ভোটার হলে ৩০ হাজার টাকা এবং ৫০ হাজার ১ ও তদূর্ধ্ব ভোটারের ওয়ার্ডের জন্য ৫০ হাজার টাকার জামানত জমা দিতে হয়। আর সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়।

২০২৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ভোটার ভেদে পার্থক্য হয়ে থাকে।

দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০ উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

৪ বছর বয়সে রেলস্টেশনে পাওয়া মেয়েটির নতুন জীবনের শুরু

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের সংস্কার আনছে ইসি

প্রকাশের সময়: ১০:৩৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

বার সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রচারণার পোস্টারের ব্যবহার থাকছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে এসব নির্বাচনে প্রযুক্তিনির্ভর ভোটদান পদ্ধতি ইভিএম’র ব্যবহারও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এবং কেবল ‘সিরিয়াস’ প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।

নির্দলীয় স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। নির্বাচন আয়োজনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজও পুরোদমে চলছে। আজকে কমিশন একটি বিশেষ সভা ডেকেছে, যেখানে একটি সমন্বিত আচরণবিধিমালা তৈরির বিষয়ে খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনী প্রস্তুতিকে ডিজিটাল ও নিখুঁত করতে ‘ইলেকশন সিডিউল ম্যানেজমেন্ট মডিউল (ইএমএস)’ নামে একটি সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সব কটি প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুর রহমানেল মাছুউদ গণমাধ্যমকে জানান, আমরা আগামীকাল একটি মিটিং ডেকেছি। আইনের কী কী পরিবর্তন লাগবে, যে আইন করা হয়েছে সে অনুযায়ী করেসপন্ডিং বিধি বা নির্বাচন বিধিমালা এবং আচরণ বিধিতে কী কী পরিবর্তন আনা দরকার তা নিয়ে সভায় আলোচনা হবে। সেখানে একটা খসড়া করা হবে। সেটা যাচাই-বাছাই করে কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু পরিবর্তন আসবে। যেমন, পোস্টার থাকবে না। অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিষয়টি থাকবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ন্যূনতম সমর্থনের নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

সবগুলো প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অভিন্ন আচরণবিধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এই কমিশনার বলেন, আমি মনে করি সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি একক আচরণবিধি থাকা উচিত, এবং সে বিষয়ে আমি একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করব।

প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যালট পেপারের আকার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রার্থীর সংখ্যা যদি বেশি হয়ে যায়, তাহলে ব্যালট পেপার বড় হয়ে যাবে। তখন ভোটার কাকে ভোট দেবেন, কনফিউজড হবেন। আমরা যেটা করেছি এখন নির্বাচনী জামানতের সীমা একটু বাড়িয়ে দেবো। যারা জেনুইন প্রার্থী তারাই যেন নির্বাচনে আসুক এটা আমরা চাই। যে কেউ দুই থেকে ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রার্থী হবেন, আমার ব্যালটের খরচ বেড়ে যাবে, মানুষের ভোট দিতে সময়ক্ষেপণ হবে, এটা আর হবে না।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকারের সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ, গেজেট প্রকাশের তারিখ, শপথ গ্রহণের তারিখ ও প্রথম সভার তারিখসহ ওয়ার্ড বিন্যাস, ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস ও মামলাসহ নানা বিষয়ে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ করা হচ্ছে। মাঠ কর্মকর্তাদের ১৫ মের মধ্যে সার্বিক তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আইন অনুযায়ী অনধিক ৫ লাখ ভোটার আছে এমন নির্বাচনী এলাকার জন্য মেয়র পদপ্রার্থীর জামানত ২০ হাজার। একইভাবে ভোটার ৫ লাখ ১ থেকে ১০ লাখ হলে জামানত ৩০ হাজার, ভোটার ১০ লাখ ১ থেকে ২০ লাখ হলে ৫০ হাজার এবং ভোটার ২০ লাখের বেশি হলে ১ লাখ টাকা জামানত নির্ধারিত রয়েছে। আর সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটার অনধিক ১৫ হাজার হলে ১০ হাজার টাকা; ১৫ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার হলে ২০ হাজার টাকা; ৩০ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজার ভোটার হলে ৩০ হাজার টাকা এবং ৫০ হাজার ১ ও তদূর্ধ্ব ভোটারের ওয়ার্ডের জন্য ৫০ হাজার টাকার জামানত জমা দিতে হয়। আর সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়।

২০২৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ভোটার ভেদে পার্থক্য হয়ে থাকে।

দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০ উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।