একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম-এর ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য লোক উৎসব। উপজেলার উজানধল গ্রামে তাঁর জন্মভিটা সংলগ্ন কালনী নদীর তীরের মাঠে বিকেল পাঁচটায় আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
লোকজ সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই আয়োজনটি প্রতিবছরের মতো এবারও করছে শাহ আবদুল করিম পরিষদ, তবে এবার সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের উৎসব আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত-অনুরাগীদের মিলনমেলায় পরিণত হবে।
উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে উজানধল গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। কালনী নদীর তীরে সাজানো হয়েছে মঞ্চ, নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা। বিকেল থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে থাকবে আলোচনা সভা, যেখানে কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। তারা বাউলসম্রাটের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোকপাত করবেন।
এরপর দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হবে শাহ আবদুল করিম-এর কালজয়ী গান। তাঁর শিষ্য, ভক্ত-অনুরাগীদের পাশাপাশি দেশের স্বনামধন্য শিল্পীরাও অংশ নেবেন এই পরিবেশনায়। মাটির টানে, সহজ ভাষায় রচিত তাঁর গান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
পরিষদের সভাপতি ও বাউলসম্রাটের একমাত্র ছেলে শাহ নূর জালাল বলেন, বাবার জীবনদর্শন ছিল মানুষ, সাম্য ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। কালনী নদীর তীরে বসেই তিনি অসংখ্য কালজয়ী গান রচনা করেছেন। নতুন প্রজন্ম যেন তাঁর গান ও দর্শনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে, সেজন্যই এই উৎসবের আয়োজন।
তিনি আরও জানান, এবারের উৎসবে প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণ আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিল্পী ও গবেষকদের উপস্থিতিতে উৎসবটি একটি জাতীয় পর্যায়ের মিলনমেলায় রূপ নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
লোকসংস্কৃতির ধারক-বাহক এই আয়োজন দিরাইয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে যেমন প্রাণবন্ত করে তুলবে, তেমনি বাউল দর্শনের চর্চা ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 



















