লিবিয়া হয়ে সাগর পথে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার সময় মর্মান্তিকভাবে অন্তত ২২ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৪ জন রয়েছেন। নিহতরা হলেন-উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তুবরুক উপকূল থেকে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে একটি ছোট নৌকা গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। টানা ছয় দিন খাবার ও পানির অভাবে নৌকায় থাকা যাত্রীরা মানবেতর জীবনযাপন করেন। এ সময় অসুস্থতা ও অনাহারে কয়েকজনের মৃত্যু হলে মানবপাচারকারীরা তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেয় বলে জানা গেছে।
নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের ওয়াকিব মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান নামের এক মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারগুলোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্থানীয়রা দ্রুত নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত মানবপাচার চক্রকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এছাড়া, সচেতন মহল মনে করছে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত এমন পথে প্রিয়জনদের পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিবারগুলোরও আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে বিদেশগমনের প্রবণতা রোধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 


















