সুনামগঞ্জে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় প্রধান আসামি আলহাম হোসেনকে (২৬) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। একই অভিযানে অপহৃত স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি আভিযানিক দল শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানাধীন পাগলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-২৩, তারিখ ১০ আগস্ট ২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারার মামলায় এজাহারনামীয় ১ নম্বর পলাতক আসামি আলহাম হোসেনকে গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আলহাম হোসেন (২৬) সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব তেঘরিয়া এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে।
র্যাব ও মামলার সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ভিকটিম সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন সরকারি সতীশ চন্দ্র গার্লস হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত আলহাম হোসেন প্রবাসে থাকাকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরে তাকে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করেন। পরে ওই ছাত্রীও অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
প্রায় দেড় মাস আগে আলহাম হোসেন দেশে ফিরে পুনরায় ওই ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। বিষয়টি ছাত্রীটি পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা অভিযুক্তকে তাকে উত্ত্যক্ত না করার জন্য অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলহাম হোসেন পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ওই ছাত্রীকে অপহরণের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ওই ছাত্রী বসতবাড়ির সামনে হাঁটাহাঁটি করার জন্য বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আলহাম হোসেন সহযোগীদের সহায়তায় তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে ছাত্রীটি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আলহাম হোসেনকে গ্রেপ্তার ও ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেফতার আসামি এবং উদ্ধার হওয়া ভিকটিমকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
কালনী ভিউ ডেস্কঃ 


















