রাজধানীতে ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা।
বুধবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত আসামির এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
পুলিশ জানায়, আসামি সোহেল রানা স্বেচ্ছায় অপরাধ স্বীকার করতে রাজি হওয়ায় কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সাথে এই মামলায় তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে আটক রাখার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে স্কুলে যাওয়ার সময় হলে পরিবারের সদস্যরা রামিসাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতো দেখতে পান স্বজনেরা। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে একটি কক্ষে রামিসার রক্তাক্ত ও মস্তকহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। পরে অন্য একটি কক্ষের বালতির ভেতর থেকে তার খণ্ডিত মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয় এবং তার হাত ও সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়। ঘটনার পর কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
কালনী ভিউ ডেস্কঃ 


















