প্রতিষ্ঠার ২৭ বছরেও সেবা বঞ্চিত দিরাই পৌরবাসী

নেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২৭ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভা। দীর্ঘ এই সময়ে জনসংখ্যা ও নাগরিক চাহিদা বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী।

পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে ৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে দিরাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভার উদ্বোধন করেন।

তবে প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পরও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, ড্রেনেজ, সড়কবাতি ও যানজটসহ নানা নাগরিক সমস্যা রয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পৌরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের অধিকাংশ সড়কের অবস্থা ভালো নয়। বৃষ্টির সময় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নাছির উদ্দীন রোড, কলেজ রোডের আংশিক এলাকা, মজলিশপুর, হারানপুর ও দোওজ আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ ছাড়া রাধানগর-শুকুরনগর সড়ক, দোওজ এলাকা, উপজেলা পরিষদ থেকে উলুকান্দি পর্যন্ত সড়কসহ শহরের বিভিন্ন সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, পৌর এলাকার অনেক সড়কের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের সড়কের অবস্থাও ভালো।

পৌর শহরে পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়। অন্যদিকে দিরাই বাজার ব্রিজ থেকে কলেজ রোড হয়ে বাসস্টেশন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজট লেগে থাকে। শহরের ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ ভাসমান দোকানিদের দখলে থাকায় পথচারীদের চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার সময় নাগরিকদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার পুরোপুরি প্রতিফলন এখনো ঘটেনি। নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করেও অনেকে প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতারা দিরাই পৌরসভার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি বলে তাদের অভিযোগ।

পৌরবাসীর দাবি, শহরের সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপনের মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে দিরাই পৌর প্রশাসক সনজীব সরকার বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পৌরসভার বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নাছির উদ্দীন রোডের মেরামত কাজ করা হয়েছে। দিরাই বাজারের ড্রেন, কুসুমবাগ আবাসিক এলাকার ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন সড়ক মেরামত ও ড্রেন নির্মাণের কাজ সমাপ্তির পথে। অচিরেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো মেরামতসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ:

প্রতিষ্ঠার ২৭ বছরেও সেবা বঞ্চিত দিরাই পৌরবাসী

প্রতিষ্ঠার ২৭ বছরেও সেবা বঞ্চিত দিরাই পৌরবাসী

প্রকাশের সময়: ০৪:২৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২৭ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভা। দীর্ঘ এই সময়ে জনসংখ্যা ও নাগরিক চাহিদা বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী।

পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে ৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে দিরাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভার উদ্বোধন করেন।

তবে প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পরও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, ড্রেনেজ, সড়কবাতি ও যানজটসহ নানা নাগরিক সমস্যা রয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পৌরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের অধিকাংশ সড়কের অবস্থা ভালো নয়। বৃষ্টির সময় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নাছির উদ্দীন রোড, কলেজ রোডের আংশিক এলাকা, মজলিশপুর, হারানপুর ও দোওজ আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ ছাড়া রাধানগর-শুকুরনগর সড়ক, দোওজ এলাকা, উপজেলা পরিষদ থেকে উলুকান্দি পর্যন্ত সড়কসহ শহরের বিভিন্ন সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, পৌর এলাকার অনেক সড়কের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের সড়কের অবস্থাও ভালো।

পৌর শহরে পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়। অন্যদিকে দিরাই বাজার ব্রিজ থেকে কলেজ রোড হয়ে বাসস্টেশন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজট লেগে থাকে। শহরের ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ ভাসমান দোকানিদের দখলে থাকায় পথচারীদের চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার সময় নাগরিকদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার পুরোপুরি প্রতিফলন এখনো ঘটেনি। নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করেও অনেকে প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতারা দিরাই পৌরসভার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি বলে তাদের অভিযোগ।

পৌরবাসীর দাবি, শহরের সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপনের মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে দিরাই পৌর প্রশাসক সনজীব সরকার বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পৌরসভার বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নাছির উদ্দীন রোডের মেরামত কাজ করা হয়েছে। দিরাই বাজারের ড্রেন, কুসুমবাগ আবাসিক এলাকার ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন সড়ক মেরামত ও ড্রেন নির্মাণের কাজ সমাপ্তির পথে। অচিরেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো মেরামতসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।